নেপালের মহাপ্রলয়ের আঁচ কি এসে পড়বে বঙ্গে? উত্তরবঙ্গ যাওয়ার টিকিট কাটার আগে ১০০ বার ভাবুন!

ভাদ্র মাসের নীল আকাশের নিচে ঘনিয়ে আসা এক ভয়ানক প্রাকৃতিক বিপর্যয় গোটা উপমহাদেশে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, যার মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। সামান্য একটি ভূমিকম্পের জেরে প্রায় ২০০০ ফুট চওড়া একটি বিশাল হিমবাহ ৪০০০ ফুট নিচে আছড়ে পড়ে। যার ফলে কাদা, বালি, বোল্ডার ও পাথরের তৈরি এক প্রলয়ঙ্কর জলবোমা নিমেষে সবকিছু ধুলিস্যাৎ করে দেয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি সহ বিহার ও উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তায় রাখা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিহার ও নেপালের এই ভয়াবহতার প্রভাব কি তবে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও পড়তে চলেছে?

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর সামনে আসতেই পর্যটকদের মনে এক বিরাট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই উত্তরবঙ্গ বা সিকিম ভ্রমণের সমস্ত পরিকল্পনা বাতিল করতে শুরু করেছেন। তবে আবহাওয়া ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে টিকিট বা হোটেল বুকিং বাতিল করার কোনো প্রয়োজন নেই। নেপালের এই বিপদের মূল কারণ অতিবৃষ্টি নয়, বরং হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যা। তাই উত্তরবঙ্গ বা সিকিমের স্বাভাবিক পর্যটনে এর সরাসরি কোনো প্রভাব নেই। বর্ষার দিনে সামান্য বৃষ্টিপাত হতে পারে, তবে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় সপ্তাহের শেষের দিকে উত্তরবঙ্গের দিকে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, বিহার ও উত্তরপ্রদেশে গণ্ডক নদীর তীরে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন। ভোতে কোশী নদীর প্রবল জলের তোড়ে ইতোমধ্যে দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোতে কোশী নদীটি বিহারে এসে গণ্ডক নদীর সঙ্গে মিশেছে। তবে সমতল ভূমি হওয়ায় নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেলেও এখনই বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, গণ্ডক নদীটি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেনি, ফলে এই বিপর্যয় থেকে বাংলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই।

তা সত্ত্বেও রাজ্যে বর্ষার প্রভাব পুরোপুরি কাটছে না। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষভাগে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও লাগাতার বৃষ্টির পূর্বাভাস বহাল রয়েছে। বিশেষ করে আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ২৮ আগস্ট উত্তরবঙ্গের ওপরের দিকের পাঁচটি জেলা—জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ফের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতেও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সুতরাং, ট্রিপ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সাবধানে ভ্রমণ করার পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।