প্লাবনের গ্রাসে সর্বস্বান্ত! নেপালে প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় বহুতল ডুবল কাদা-পাথরে, মৃতদের সংখ্যা নিয়ে বিরাট আতঙ্ক

আগস্ট মাসে প্রকৃতির এক রূপ ভয়াবহ তাণ্ডব দেখেছে নেপাল। দেশটির রসুয়া, ভোতেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর অববাহিকা এলাকায় নেমে আসা প্রলয়ঙ্কারী বন্যা ও ভূমিধস এক নিমেষে সবকিছু ওলোটপালট করে দিয়েছে। মাঠপর্যায়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে দেখা গেছে এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শত শত বাড়িঘর, পাকা রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং মৌলিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির রূপ দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো এক অচেনা প্রলয় সব কিছু গ্রাস করে নিয়েছে। অনেক আবাসিক ভবনের নিচুতলা তো বটেই, এমনকি দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত কাদা, বালি ও পাথরের স্তূপে পুরোপুরি ঢেকে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে নেমে আসা এই পাহাড়ি ঢলের বেগে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালানোরও সময় পায়নি। এর জেরে বাড়িঘরের ভেতরে থাকা আলমারি, সিন্দুক থেকে শুরু করে সোনার গহনা, নগদ টাকা, মূল্যবান সামগ্রী এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসপত্র এখন পুরু কাদা ও পাথরের নিচে চিরতরে চাপা পড়ে রয়েছে। জীবিকার একমাত্র সম্বলটুকু হারিয়ে চোখের জলে দিন কাটাচ্ছেন সর্বস্বান্ত মানুষগুলি। বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদটুকু উদ্ধার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিপর্যস্ত এই জনপদের বহু মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
প্রাকৃতিক এই তাণ্ডবের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের বেগে বয়ে যাওয়া জলের তোড়ে অসংখ্য টেলিফোন ও বিদ্যুতের খুঁটি গোড়া থেকে উপড়ে গেছে, যার ফলে গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা অচল থাকায় বাইরের বিশ্বের সাথে সংযোগ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলেও রাস্তার বেহাল দশার কারণে ত্রাণ কার্য মার খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে আগামী দিনে আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যা নিয়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মনে।