জলপাইগুড়িতে লোমহর্ষক খুন! মিষ্টির দোকানের কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্ত্রীর দিকে সন্দেহের তীর

জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি রোড এলাকা থেকে গলার নলি কাটা অবস্থায় এক মাঝবয়সী ব্যক্তির দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে দেহটি নয়ানজুলিতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং খবর দেন পরিবারে। খবর পেয়েই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। পরে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃতের নাম অমল রায় (৫০)। তাঁর এই রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে ঘনাচ্ছে অজানা আতঙ্ক।

শান্ত স্বভাবের ব্যক্তির নৃশংস খুন: জনমনে প্রশ্ন:

স্থানীয় বাসিন্দা নিত্যানন্দ রায় ও নিতাই বর্মনের মতো অনেকেই জানিয়েছেন, অমল রায়ের দেহটি গলার নলি কাটা অবস্থায় পড়েছিল, যা দেখে স্পষ্টতই মনে হচ্ছে তাঁকে খুন করে নয়ানজুলিতে ফেলে রাখা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকার মানুষকে হতবাক করে দিয়েছে। অমল রায় স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং কারোও সঙ্গে তাঁর কোনো শত্রুতা ছিল না। তাহলে কে বা কারা এমন নির্মমভাবে তাঁকে খুন করল, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে। এলাকায় চলছে চাপা চাপানউতোর।

পারিবারিক কলহের ইঙ্গিত, স্ত্রীর দিকে সন্দেহের তীর:

তবে এই রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে পরিবারের মধ্যেই সন্দেহের বীজ বপন হয়েছে। মৃতের ভাই কমল রায় জানিয়েছেন, তাঁর দাদা বেশ কয়েক বছর আগেই তাঁদের পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং শ্বশুরবাড়ির কাছেই নতুন বাড়ি তৈরি করে থাকতেন। কমলের দাবি, তাঁর বৌদির (অমল রায়ের স্ত্রীর) সঙ্গে দাদার সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। এখানেই শেষ নয়, দাদার দেহ উদ্ধারের খবরও বৌদি তাঁদের জানাননি বলে অভিযোগ কমলের। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়েই তিনি থানায় ছুটে এসেছেন।

কমল রায়ের এই দাবি এবং তাঁর বৌদির ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন এখন পুলিশের তদন্তের মূল মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ অমল রায়ের স্ত্রী ও মেয়েকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তাঁদের কাছ থেকে কোনো নতুন তথ্য উঠে আসে কিনা, এবং এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে – সেদিকেই এখন সকলের নজর। পুলিশের তদন্তের জল কতদূর গড়ায়, তার উপরই এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচন নির্ভর করছে।