জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে ভূমিধস, স্কুল ধসে মৃত ১, অমরনাথ যাত্রা স্থগিত

প্রবল বর্ষণের জেরে জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে নেমে এসেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তাণ্ডব। আজ সকালে মা বৈষ্ণোদেবীর যাত্রাপথে কাত্রায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একটি শেডের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও, ধসের কারণে বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে পড়তে দেখা যাচ্ছে।

শুধুমাত্র বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথেই নয়, রাজ্যের পুঞ্চে একটি সরকারি স্কুলেও ধস নেমেছে। এই ঘটনায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কের উধমপুর জেলার সামরোলি গ্রামের কাছে দেওয়াল ব্রিজের পাশেও ধস নেমেছিল। এর ফলে কাশ্মীর অভিমুখী রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়, যা যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে, টানা ৩৬ ঘণ্টা বৃষ্টির কারণে অমরনাথ যাত্রাও স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ১৬ই জুলাই সন্ধ্যায় জে মোড় এলাকায় ধস নামায় বহু তীর্থযাত্রী আটকে পড়েন। ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে আটকে পড়া তীর্থযাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের কিছু অংশে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, প্রতিবেশী রাজ্য উত্তরাখণ্ডের ছয়টি জেলায় সোমবার জারি করা হয়েছে ‘কমলা সতর্কতা’। দেরাদুন, তেহরি, পৌড়ি, নৈনিতাল, চম্পাবত ও উদম সিং নগরে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।