জমি চাষে দিয়ে রাতারাতি মালিকানা দখল! সিআইডির চার্জশিটে সুমিত-সুজয় জুটির চাঞ্চল্যকর কারসাজি ফাঁস

সরকারি জমি চাষের উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে দিয়ে, পরবর্তীতে সেই জমিতেই ব্যক্তি মালিকানার ভুয়ো দাবি তুলে প্রকৃত মালিকদের বলপূর্বক উচ্ছেদ করার এক চাঞ্চল্যকর চক্রের সন্ধান মিলেছে। আলোচিত সুমিত ও সুজয় হাজরা জুটির এই কুকীর্তি নিয়ে সম্প্রতি রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র পেশ করা চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সাধারণ মানুষের জমি কেড়ে নেওয়ার এই অভিনব কায়দা এবং অপরাধের সাম্রাজ্য কীভাবে গড়ে উঠেছিল, তা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পেরেছে যে, এই দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছিল। প্রথমে তারা বিভিন্ন এলাকার উর্বর সরকারি জমি চাষ করার জন্য এলাকার সহজ-সরল কৃষকদের মৌখিক বা নামমাত্র চুক্তিতে দিত। কৃষকরা যখন সেই জমিতে প্রচুর পরিশ্রম করে ফসল ফলাতেন এবং জমিটিকে আযোগ্য করে তুলতেন, ঠিক তখনই সুমিত ও সুজয় জুটির আসল রূপ বেরিয়ে আসত। তারা বিভিন্ন ভুয়ো নথিপত্র এবং জাল কাগজ তৈরি করে ওই জমির মালিকানা নিজেদের বা নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নিত।

এরপর স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে প্রকৃত বা মূল মালিকদের ওপর নেমে আসত অকথ্য অত্যাচার। রাতের অন্ধকারে পুলিশ বা গুন্ডা বাহিনীর ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক জমি থেকে উচ্ছেদ করা হতো সাধারণ মানুষকে। শুধু তাই নয়, একাধিক ভুয়ো নাম ব্যবহার করে বেনামে বহু বিঘা সম্পত্তি কিনে তা নিজের দখলে রাখার প্রমাণও সিআইডির হাতে এসেছে। সাধারণ গরিব মানুষ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো, যার ফলে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।

সিআইডির এই চার্জশিট পেশ হওয়ার পর হাজরা জুটির কুকীর্তি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষও। কীভাবে একটি প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর ধরে আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করে চলেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। গোয়েন্দারা এখন এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক আধিকারিকদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এই কড়া পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, এই ধরনের অপরাধ দমন করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।