‘চোখের জল আর আটকাতে পারছি না!’ আদালতের রায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দিশা সালিয়ানের বাবা

সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যমৃত্যুর দীর্ঘ ছয় বছর পর এই চাঞ্চল্যকর মামলায় অবশেষে বড়সড় মোড় এল। বম্বে হাইকোর্ট এই ঘটনায় সিবিআইকে (CBI) অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বইয়ের মালাডের একটি বহুতলের ১৪ তলা থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল দিশার। ঠিক তার কয়েক দিন বাদেই, ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের নিথর দেহ। জোড়া এই হাই-প্রোফাইল মৃত্যুর জট আজও পুরোপুরি না কাটলেও, দিশার পরিবারের টানা ছয় বছরের আইনি লড়াই অবশেষে এক বড় আইনি সাফল্যের মুখ দেখল।
আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পরই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রয়াত দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে মেয়ের মৃত্যুর নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন তিনি। রায়দানের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সতীশবাবু। তিনি জানান, দীর্ঘ ছ’বছর তিনি বুকফাটা যন্ত্রণা সহ্য করে এই দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ না থাকলেও, আজ আদালতের এই হস্তক্ষেপে তিনি কিছুটা মানসিক স্বস্তি পেয়েছেন। বিচারককে হাতজোড় করে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন যে সত্যের জয় অবশেষে সুনিশ্চিত হয়েছে। দিশার মৃত্যুর সময়ও যিনি এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেননি, আজ আদালতের রায়ের পর সেই পিতৃহৃদয়ের বাঁধ ভেঙে যায়। আইনজীবীর পরবর্তী পরামর্শ অনুযায়ীই তিনি আগামী পদক্ষেপ করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই রায়ের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। দিশার মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে তৎকালীন উদ্ধব ঠাকরে সরকারের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী কোনো নেতাকে বাঁচানোর জোরদার প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন দিশার বাবা। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে শিবসেনা (UBT) শিবিরকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ শাণিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রাম কদম। তিনি মন্তব্য করেছেন যে শেষ পর্যন্ত বিচারব্যবস্থা দিশার পরিবারকে ন্যায়বিচার উপহার দিয়েছে। ঈশ্বরের ঘরে দেরিতে হলেও অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে সত্যের আলো যে অবধারিতভাবে ফোটে, এই রায় তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ। একজন শোকার্ত পিতার বুকফাটা আর্তনাদকে তৎকালীন সরকার ধামাচাপা দেওয়ার যে অপচেষ্টা চালিয়েছিল, এই সিবিআই তদন্তের নির্দেশের মাধ্যমে সেই অন্ধকার চক্রান্তের পর্দাফাঁস হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।