“চিনের মতো করলেই কি গায়েব করে দেবে সরকার? ব্রেন ড্রেন রুখতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মোদী মন্ত্রীর”

বিদেশে পাড়ি জমানো দেশের মেধাবী বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্বদেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গৃহীত সরকারি উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। বর্তমানে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের পাঁচ দিনের সরকারি সফরে ইউরোপে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বার্লিনে ভারতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষক ও পড়ুয়াদের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতায় অংশ নেন। সেখানে ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী মেধাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি একনায়কতন্ত্র বনাম গণতন্ত্রের তুলনামূলক আলোচনা করতে গিয়ে নাম না করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রধান অভিজিৎ দিপকেকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রায় ১০০ জন ভারতীয় ব্যবসায়ী ও স্টার্টআপ প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন পীযূষ গোয়েল। আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর এই সফর চলার কথা রয়েছে। বার্লিনের এক জনাকীর্ণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উদাহরণ হিসেবে চিনের বিশেষ সরকারি উদ্যোগের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। উল্লেখ্য, চিন সাধারণত বিদেশ থেকে তাদের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মোটা অঙ্কের আর্থিক অনুদান, লোভনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা দিয়ে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনে।
ভারতীয় মেধাকে একইভাবে ভারতে ফিরিয়ে আনার কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে কি না—পড়ুয়াদের তরফ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অত্যন্ত খোলামেলাভাবে গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মূল ফারাক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের যে প্রান্তেই যাবেন, সেখানেই ভারতীয়দের অসাধারণ প্রতিভা দেখতে পাবেন। কিন্তু আমরা কীভাবে তাঁদের আবার ভারতে ফিরিয়ে আনব? আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে এই ধরনের সুযোগ বা প্রণোদনার কোনো অপব্যবহার না হয়। চিনে মানুষ অপব্যবহারের ভয়ে মুখ খুলতেই সাহস পায় না, সেখানে সরকারবিরোধী মানুষ স্রেফ গায়েব হয়ে যায়! কিন্তু ভারতে যদি কেউ এর অপব্যবহার করে, তবে হয়তো আমাকেই মন্ত্রিত্ব ছেড়ে গায়েব হয়ে যেতে হবে।”
চিনের অনুকরণে ভারতে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি মডেল চালু করার জটিলতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সরাসরি বিরোধী বা সমালোচকদের দিকে আঙুল তোলেন। একদলীয় শাসন ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা যদি এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ বা বিশেষ ফান্ডিং প্রকল্প গ্রহণ করি, তবে অভিজিৎ দিপকের মতো মানুষরা সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে চিৎকার শুরু করে বলবেন—শিক্ষার্থীদের ফান্ড বা স্কলারশিপ দেওয়াই তো সরকারের মৌলিক দায়িত্ব, তবে তা বিশেষ প্রক্রিয়ায় কেন করতে হবে? আমি কি ভুল বলছি, না ঠিক বলছি? অত্যন্ত দুর্ভাগ্যবশত, এ দেশের রাজনীতিতে এই ধরনের কিছু উপাদান সবসময় এসে আমাদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে এবং মাথা খারাপ করে দেয়। তাই আমাদের সবসময় একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো বজায় রেখেই সমস্ত নীতিমালা ও পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়।”
বার্লিনের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকেই বিদেশে কর্মরত তরুণ ভারতীয় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের নিজেদের জন্মভূমি ও মাতৃভূমির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে একটি আবেগঘন ও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেন পীযূষ গোয়েল। দেশের উন্নয়নে প্রবাসী বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি উপস্থিত পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারাও নানা নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি নিয়ে চিন্তা করুন এবং আমাদের জানান। আমরা আপনাদের সকলকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই, দেশের বহুমুখী মেধাকে ভারতে ফিরিয়ে এনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কীভাবে আপনাদের সকলকে সুচারুভাবে ফেরানো সম্ভব, আমাদের একত্রে মিলে সেই সঠিক পথ বের করতে হবে।”