চিনির আকাশছোঁয়া দাম! ভারতের পর প্রতিবেশী নেপালেও হাহাকার, সীমান্ত পেরিয়ে ইউপিতে ভিড় জনতার

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চর্চা থামছে না, তবে এবার ছবিটা কেবল ভারতের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশ নেপালেও চিনির বাজারদর রীতিমতো আকাশছোঁয়া। ভারতের তুলনায় সেখানে চিনির দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আর এই মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে বাঁচতেই অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছেন নেপালি নাগরিকরা। সীমান্ত পার হয়ে তারা সরাসরি ভিড় জমাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের বাজারে।

বর্তমানে ভারতে যেখানে প্রতি কেজি চিনি প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে নেপালের বিভিন্ন বাজারে তার দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ নেপালি রুপিতে। এই বিপুল দামের পার্থক্যের কারণে বাধ্য হয়েই সীমান্ত পার হচ্ছেন নেপালের ক্রেতারা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির গৌরীফান্তা সীমান্ত সংলগ্ন বাংওয়া মান্ডিতে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

স্থানীয় এক দোকানদার জানান, নেপালে চিনির দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ওখানকার মানুষ দলে দলে বাংওয়া বাজারে আসর জমাচ্ছেন। বর্তমানে ভারতীয় মুদ্রায় সেখানে প্রতি কেজি চিনির দাম পড়ছে ১০০ থেকে ১০৫ নেপালি রুপি, যা নেপালের বাজারের তুলনায় অনেকটাই সস্তা। এর ফলে প্রতি কেজি চিনি কিনেই নেপালি ক্রেতারা দিব্যি ৩০ থেকে ৪০ নেপালি রুপি পর্যন্ত সাশ্রয় করছেন। মুদ্রাস্ফীতির এই বাজারে সামান্য কিছু টাকা বাঁচানোও যখন কঠিন, তখন এই বিশাল অঙ্কের সাশ্রয় সাধারণ মানুষকে ভারতমুখী হতে বাধ্য করছে।

সীমান্তবর্তী বাংওয়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, নেপালে দাম বৃদ্ধির জেরে তাঁদের দোকানে চিনির বিক্রি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। বাজারে জোগান পর্যাপ্ত থাকলেও হঠাৎ করে নেপালি ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দুই দেশের এই মূল্যতারতম্যই মূলত সীমান্ত পেরিয়ে পাইকারি ও খুচরো কেনাকাটাকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে।