চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাদের মারধরে অভিযুক্তদের সংবর্ধনা, শুভেন্দুকে ‘ঘৃণার সার্কাসের রিংমাস্টার’ বলল তৃণমূল

চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের সংবর্ধনা জানানোকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বেনজির সংঘাত শুরু হয়েছে। ধৃতদের জামিনের পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের মালা পরিয়ে সম্মান জানালে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছায়। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি ‘ঘৃণার সার্কাসের রিংমাস্টার’ বলে আক্রমণ শানাল।

তৃণমূলের অভিযোগ ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে প্রশ্ন:

শাসক দলের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের সংবর্ধনা দিয়ে বিজেপি প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়েছে এবং ‘গুন্ডাতন্ত্র’-কেই তাদের দলের একমাত্র চালিকাশক্তি হিসেবে বেছে নিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর এই কাজ শুধুমাত্র রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করা নয়, বরং এর মাধ্যমে বিজেপির আসল মুখোশটা জনসমক্ষে খসে পড়েছে।

  • নীতি ও সন্ত্রাস: তৃণমূল অভিযোগ করেছে, যারা গরিব হকারদের গায়ে হাত তোলে, তাদের সম্মানিত করে বিজেপি প্রমাণ করল যে তাদের দলের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে সন্ত্রাস, নীতিপুলিশি এবং রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাজের ওপর।

  • রিংমাস্টার মন্তব্য: তৃণমূল বিরোধী দলনেতাকে নিশানা করে বলেছে, শুভেন্দু যখন অভিযুক্তদের সংবর্ধনা দিচ্ছেন, তখন তিনি আসলে সেই ঘৃণার রাজনীতিকেই উস্কে দিচ্ছেন। তাঁর পায়ের তলার কর্মীরা সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, আর শুভেন্দু অধিকারী সেখানে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন, ঠিক যেন এক ‘রিংমাস্টার’

‘খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’:

তৃণমূলের দাবি, বিজেপি এখন ঠিক করে দিতে চাইছে সাধারণ মানুষ কী খাবে, কী পরবে বা তাদের জীবন কীভাবে যাপন করবে। এই পোস্টে শাসক দলের তরফে লেখা হয়েছে, “বিজেপির ধর্ম ঘৃণা দিয়ে শুরু হয়, ভীতি প্রদর্শনে বেড়ে ওঠে এবং হিংসায় গিয়ে শেষ হয়।” গরিব বিক্রেতাদের মারধর করাকে বিজেপির ‘সংস্কৃতি’ এবং আক্রমণকারীদের সম্মান জানানোকে তাদের ‘নৈতিকতা’ বলে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও তৃণমূলের হুঁশিয়ারি:

বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে প্রশাসনিক সভার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হকার নিগ্রহের ঘটনার সমালোচনা করেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলা আর উত্তরপ্রদেশ এক নয়’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং ‘খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা’র ওপর আঘাত হিসেবেই তুলে ধরে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচারের পথে হাঁটতে চাইছে। তৃণমূল হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বাংলার মানুষ ব্যালট বক্সে বিজেপিকে এমনভাবে পরাজিত করবে যে ভবিষ্যতে কোনও নেতা বাংলার সংস্কৃতি ও মর্যাদায় আঘাত করার সাহস পাবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy