চাপের মুখে পড়েই কি বাধ্য হচ্ছেন রাজনীতি করতে? এবার মুখ খুললেন সাংসদ দেব

প্রতি বছর বন্যার কবলে পড়া ঘাটাল মহকুমার জন্য বহু প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর বাস্তবায়ন নিয়ে ফের একবার রাজনৈতিক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। মঙ্গলবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ তৃণমূল সাংসদ এবং অভিনেতা দেব-কে সরাসরি নিশানা করে মন্তব্য করেন যে, তিনি নাকি চাপের মুখে বারবার নির্বাচনে লড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দেব এই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন, যদিও তিনি কোথাও দিলীপ ঘোষের নাম উল্লেখ করেননি।
দেব ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়াতে ট্রোল হচ্ছে দেখে কষ্ট হয়। এত পরিশ্রম করছি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য বরাদ্দ করালাম।” তিনি আরও বলেন যে, তিনি ঘাটালের একমাত্র সাংসদ নন, তাঁর আগে অনেক বড় বড় নেতারা এই আসনের সাংসদ ছিলেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দেবের মতে, যদি এই পরিকল্পনা এত সহজ হতো, তাহলে অনেক আগেই তা বাস্তবায়িত হয়ে যেত।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে দেব জানান, “আমি করলাম, আমি ছেড়ে দিলাম। আবার আমাকে নিয়ে আসা হল।” তিনি বলেন, তিনি এই শর্তে রাজনীতিতে ফিরেছেন যে যদি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবে রূপ নেয়। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শর্তে সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়েছেন। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
দেব স্বীকার করেন যে, এত কিছুর পরেও তাঁকে ট্রোল হতে হয়, কিন্তু এখন এটি তাঁর কাছে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
দেবের কথায়, তিনি এখন আর বলতে পারেন না যে তাঁর রাজনীতি ভালো লাগে না। কারণ, “মানুষ এনেছেন। একটা ২০০০ কোটি টাকার প্রকল্প, সেটা বরাদ্দ হয়ে বসে আছে। পাঁচ বছর পর কমপ্লিট হয়ে যাবে, কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।” তিনি আশাবাদী, এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মানুষ বুঝতে পারবে যে তিনি কিছু একটা করতে পেরেছেন।
ঘাটালের ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে দেব বলেন যে, এই অঞ্চলের জল জমে গেলে তা বের হওয়ার রাস্তা নেই। অন্যান্য জায়গায় জল জমলেও তা বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু ঘাটালের ক্ষেত্রে অন্য রাজ্যগুলোর জল না কমা পর্যন্ত অথবা বাঁধ না খোলা পর্যন্ত জল যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। তবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে, মাসের পর মাস জল জমে থাকার সমস্যা দূর হবে এবং এক-দু’দিনের মধ্যেই জল নেমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই বন্যা পরিস্থিতিতে তিনি ঘাটালের পাশে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন।