চাকরি হারানোর দুশ্চিন্তায় প্রাণ গেল শিক্ষকের, পরীক্ষার দিনেও আঁধার তার পরিবারে

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো যোগ্য শিক্ষকরা ফের পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর পেলেন না পশ্চিম মেদিনীপুরের চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেন। গত ১৫ আগস্ট হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়। রবিবার এসএসসি পরীক্ষার দিনে তার দুই বছরের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে তার স্ত্রী সন্ধ্যা সোরেন গভীর শোকে ডুবে ছিলেন।

পরিবারের আকুতি
সুবল সোরেনের স্ত্রী সন্ধ্যা সোরেন বলেন, তার স্বামী বেঁচে থাকলে আবারও পরীক্ষায় বসে মেধার জোরে চাকরিটা ফিরে পেতেন। এখন তার একটাই আর্জি— সরকার যেন তাকে একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। না হলে তার সংসার চলবে কী করে এবং মেয়েকে মানুষ করবেন কী করে।

সুবলের দাদা কৃষ্ণ সোরেনও তার ভাইয়ের শোকে কাতর। তিনি জানান, তাদের চাষের জমি নেই, খুব কষ্ট করে মজুরি করে সংসার চালাতে হয়। তাদের বৃদ্ধ বাবাও অসুস্থ। চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই সুবল চিন্তায় ছিলেন, আর সেই দুশ্চিন্তা থেকেই তার উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে ব্রেন স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, যদি সরকার কিছু না ভাবে, তাহলে তার ভাইয়ের পরিবার আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কোনো পথ পাবে না।

মেধার ভিত্তিতেই চাকরি পেয়েছিলেন সুবল
সুবল সোরেনের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর ব্লকের সাউটিয়া গ্রামের সরকী-সামাঠ গ্রামে। তিনি ডেবরার বউলাসিনি বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে চাকরি করতেন। তার পরিবারের দাবি, সুবল মেধার ভিত্তিতেই চাকরি পেয়েছিলেন। তার দাদা কৃষ্ণ সোরেন বলেন, তফসিলি সংরক্ষণ তালিকায় সুবলের নাম রাজ্যের মধ্যে চতুর্থ স্থানে ছিল। এছাড়া, তার নাম কোনো ‘দাগি’ তালিকাতেও ছিল না। ফলে, তিনি যদি আবার পরীক্ষায় বসতেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই চাকরি ফিরে পেতেন। কিন্তু সেই সুযোগটা তিনি আর পেলেন না।

সুবলের স্ত্রী সন্ধ্যার কথায়, “সরকার তো যোগ্য, অযোগ্য সকলের কথা ভাবছে। আমার জন্য কিছু ভাবুক। আমার তো একটা ছোট্ট মেয়ে রয়েছে। সরকার না দেখলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই আমার।”