“আমার অবসরের অপেক্ষা করছেন বুঝি?” আরাবল্লী মামলার সময়সীমা বাড়িয়ে সিজেআই-এর তোপ!

আরাবল্লী পর্বতমালা ও তার সংজ্ঞায়ন সংক্রান্ত জটিল মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভারতীয় বন গবেষণা ও শিক্ষা পরিষদের (ICRF) নেতৃত্বে গঠিত ওই পাঁচ সদস্যের কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশ না করে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল। এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত। মামলার শুনানিপর্বে প্রকাশ্য আদালতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সিজেআই মন্তব্য করেছেন, “মনে হচ্ছে আমার অবসর নেওয়ার অপেক্ষা করছেন ওঁরা।”

আদালতের পূর্বনির্দেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিশদ রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কমিটির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় চাওয়া হলে কেন্দ্র সরকারের পক্ষে সওয়াল করা অতিরিক্ত সলিসটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটির আর্জি নস্যাৎ করে দেন প্রধান বিচারপতি। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রথম কলমের আঁচড়েই এই মেয়াদবৃদ্ধির আবেদন খারিজ করা হচ্ছে। রাতদিন এক করে হলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই রিপোর্ট পেশ করতে হবে। কোনোভাবেই নির্ধারিত সময় বাড়ানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ আগস্ট কমিটি তাদের অন্তর্বর্তী রিপোর্টে জানিয়েছিল যে, আরাবল্লীর ভৌগোলিক অবস্থান, ভূতাত্ত্বিক গঠন, জীববৈচিত্র্য, আর্থ-সামাজিক প্রভাব এবং খনি তৈরির সম্ভাব্য ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, আরাবল্লী পর্বতের সঠিক সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়েই মূলত আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রকের গঠিত পূর্ববর্তী একটি কমিটি সুপারিশ করেছিল যে, সমতল ভূমি থেকে ১০০ মিটার বা তার বেশি উঁচু মাটিকেই ‘আরাবল্লী পাহাড়’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ৫০০ মিটারের মধ্যে দুটি পাহাড় থাকলে তাকে ‘আরাবল্লমালা’ বলা হবে। তবে এই অঞ্চলে নতুন করে খনি ও ভারী শিল্প কারখানা তৈরির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবেশবিদরা।