চলন্ত ট্রেনে হাহাকার! চোখের পলকে গ্রাস করল আগুন, কীভাবে বাঁচলেন যাত্রীরা?

উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলায় ফের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হতেও রক্ষা পেলেন সাধারণ যাত্রীরা। চলন্ত অবস্থায় শহিদ এক্সপ্রেসের একটি স্লিপার কোচে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ায় চরম চাঞ্চল্য ও তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো কোচে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত নিত্যযাত্রী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিত বুদ্ধিতে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
শনিবার সকালে নির্ধারিত গতিতেই ছুটছিল শহিদ এক্সপ্রেস। হঠাৎই ট্রেনের একটি স্লিপার কোচ থেকে তীব্র ধোঁয়া এবং আগুনের শিখা বের হতে দেখেন যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় কোচের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চিৎকার ও কান্নার রোল পড়ে যায়। অনেকেই বুঝতে পারছিলেন না এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে দরজার দিকে ছুটে যান আতঙ্কিত যাত্রীরা।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন যাত্রীরাই। চেন টেনে ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করেন তাঁরা। ট্রেনটি থামামাত্রই হুড়োহুড়ি করে নিচে নেমে আসেন যাত্রীরা। ট্রেনের দরজা ও জানালা দিয়ে যাত্রীদের দ্রুত নেমে আসার দৃশ্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। চালকও পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনটি সম্পূর্ণ থামিয়ে দেন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।
খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। দমকল কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে রেলের কারিগরি দল এবং সুরক্ষা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। ট্রেনটি সম্পূর্ণ নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার পর প্রায় এক ঘণ্টা বাদে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় শহিদ এক্সপ্রেস।
তবে ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেলের তরফ থেকে শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো অন্তর্ঘাত, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোচের ভেতরে কোনো বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ ছিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে ফরেন্সিক পরীক্ষা। বারবার এই ধরনের চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন নিত্যযাত্রীরা।