চোরবাগানের ২৫ ফুটের প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে চরম উৎকণ্ঠা! মণ্ডপ অক্ষত রেখেই কি সম্ভব বিসর্জন?

চোরবাগানের আলোচিত প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বিসর্জনের প্রস্তুতি। তবে আদালতের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কঠোর নির্দেশ এবং প্যান্ডেল অক্ষত রাখার শর্তের কারণে এই বিশাল প্রতিমা বের করা এক প্রকার অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা প্রথা এবং বর্তমান পরিস্থিতির দ্বন্দ্ব চোরবাগান পুজো কমিটিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ঐতিহ্যগতভাবে চোরবাগান সর্বজনীনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো মণ্ডপের ভেতরেই প্রতিমা নির্মাণ। প্রখ্যাত শিল্পী সুশান্ত শিবানি পালসহ পূর্বের মৃৎশিল্পীরা সাধারণত পুজোর পর মণ্ডপের পিছন দিকের অংশ বা পিঠের অংশ সম্পূর্ণ খুলে সেখান থেকেই প্রতিমা ট্রাকে তুলে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। চোরবাগান মণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর গঠিত তদন্তকারী দলের প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সাফ নির্দেশ দিয়েছেন যে, মণ্ডপ যতটা সম্ভব কম ভেঙে প্রতিমা বাইরে আনতে হবে।

শনিবার সকাল থেকেই মণ্ডপের একটি অংশ খুলে প্রতিমা সরানোর কাজ শুরু হলেও ২৫ ফুট উঁচু এই সুবিশাল প্রতিমাকে সুকৌশলে বাইরে আনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পীদের মতে, মূল প্রবেশপথের সামনে একাধিক সার্কুলার স্ট্রাকচার থাকার কারণে সেখান দিয়ে এত বড় প্রতিমা বের করা একরকম অসম্ভব। যদিও প্রতিমা বার করার অনুমতি মিলেছে, তবুও টেকনিক্যাল নানা জটিলতা ও ফাঁকফোকরের কারণে শেষ পর্যন্ত বিসর্জন প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

পুলিশের নতুন গাইডলাইন এবং তদন্তকারীদের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আজ ২৪ অক্টোবর শনির মধ্যরাতের মধ্যেই শহরের সমস্ত বারোয়ারী কমিটিকে তাদের প্রতিমা বিসর্জন বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এদিকে চোরবাগান কাণ্ডে ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এসআইটি প্রধান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পুজো মণ্ডপটি সম্পূর্ণ অক্ষত রেখেই প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে, অন্যথায় বিসর্জন স্থগিত রাখারও ইঙ্গিত মিলেছে। এখন সমস্ত মহলের নজর চোরবাগানের এই বিশালাকার প্রতিমা নিরঞ্জনের রোমহর্ষক ও নাটকীয় সমাপ্তির দিকেই।