“চপার ধ্বংস হয়ে যেত!” খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ড্রোন, গ্রেফতারির পর সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য!

নির্বাচনের মুখে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় বড়সড় গলদ! মালদহের সামসী কলেজ মাঠ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার ওড়ার মুহূর্তেই মাথায় ওপর ড্রোন উড়তে দেখে মেজাজ হারালেন তৃণমূল নেত্রী। এই ঘটনায় ইতিমধেই বিহারের বাসিন্দা তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যা নিয়ে সরগরম জেলার রাজনীতি।

ঠিক কী ঘটেছিল?

শনিবার সামসী কলেজ মাঠের জনসভা শেষ করে গাজোলের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কপ্টারে ওঠার সময় তিনি দেখতে পান, খুব কাছ দিয়েই একটি ড্রোন উড়ছে। ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী হ্যান্ড মাইকেই বলেন, “হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়ে যেত! হাই সিকিউরিটি জোনে কেন ড্রোন উড়ছে? পুলিশ কী করছিল?”

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় ড্রোন চালককে। পরে জেরা করে আরও দুজনকে গ্রেফতার করে চাঁচল থানার পুলিশ।

বিহার যোগ ও চাঞ্চল্যকর মোড়:

ধৃত তিন যুবকের পরিচয় সামনে আসতেই দানা বেঁধেছে রহস্য। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত অঙ্কিতকুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল ও নূর আখতার প্রত্যেকেই বিহারের কাটিহার জেলার বাসিন্দা। ধৃতদের দাবি, তাঁরা পেশাদার ভিডিওগ্রাফার এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজ করতে এসেছিলেন। ভালো ফুটেজ পাওয়ার লোভেই নাকি তাঁরা ড্রোনটি হেলিকপ্টারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।

শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা:

এই ঘটনাকে অস্ত্র করে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। উত্তর মালদহ জেলা বিজেপি নেতা কিষান কেডিয়ার অভিযোগ, “তৃণমূল ভোট লুট করতে বিহার থেকে দুষ্কৃতী আমদানি করছে, এই গ্রেফতারি তারই প্রমাণ।” অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসি গোটা বিষয়টি পুলিশের তদন্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

সংক্ষেপে খবর:

  • ঘটনা: মমতার হেলিকপ্টারের কাছে ড্রোন ওড়ানো।

  • স্থান: সামসী কলেজ মাঠ, মালদহ।

  • ধৃত: ৩ জন (বিহারের বাসিন্দা)।

  • অভিযোগ: নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও বেআইনি ড্রোন ব্যবহার।

বর্তমানে ধৃতদের চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। নির্বাচনের মুখে ভিন রাজ্যের যুবকদের এই তৎপরতা নিছকই ‘শুটিং’ নাকি এর পিছনে অন্য কোনো ছক রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।