চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার আগে নৃশংস নির্যাতন! ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ফাঁস শিবার মৃত্যুর আসল সত্যি

রাজধানী লখনউয়ের কুখ্যাত ‘শিব-শ্রদ্ধা’ মামলায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। গত ৯ অক্টোবর রাতে লখনউয়ের হজরতগঞ্জের অবধ গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় এবার প্রকাশ্যে এল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। আর সেই রিপোর্টেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, মৃত্যুর আগে ওই যুবকের ওপর চালানো হয়েছিল চরম শারীরিক নির্যাতন।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে শিবার শরীরে মোট ১১টি বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে। এমনকি তাঁর উভয় ফুসফুসে মারাত্মক আঘাত, যকৃত ও প্লীহার ক্ষতি, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং ডান শ্রোণীচক্রের হাড় ভাঙা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের অভ্যন্তরীণ এই গুরুতর আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তাঁর মৃত্যুর কারণ। কেবল অন্তর্বাস পরা অবস্থায় শিবার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল— এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, নাকি ঠাণ্ডা মাথার খুন?

ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা দুবে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, কড়া নজরদারি এড়িয়ে তিনি ইতিমধ্যেই নেপালে পালিয়ে গিয়েছেন এবং এই পলায়নের পেছনে কোনও ভিআইপি যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শ্রদ্ধার পাশাপাশি তাঁর বোন, ড্রাইভার আদিল এবং প্রাক্তন প্রেমিক আমিরের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন।

অন্যদিকে, মৃত শিবার মা রঞ্জনা শর্মা গুরুতর অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন শ্রদ্ধার ড্রাইভার আদিল তাঁকে ফোন করে জানিয়েছিল যে শিবা অসুস্থ। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে যায় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তরা চম্পট দেয়। গত কয়েক মাস ধরে পুত্রকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন শোকার্ত মা। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটির গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।