গ্রেপ্তার হলেই লিখিত কারণ দিতে হবে অভিযুক্তকে! ব্যক্তি স্বাধীনতায় সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়, না মানলে মুক্তি

দেশের আইনব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করল সুপ্রিম কোর্ট। এখন থেকে যেকোনো অপরাধে, যেকোনো আইনের আওতায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে, গ্রেপ্তারের কারণ অবশ্যই লিখিত আকারে অভিযুক্তকে জানাতে হবে। কেবল লিখিত নথি নয়, এই কারণ অবশ্যই সেই ভাষায় ব্যাখ্যা করতে হবে, যা অভিযুক্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন।
প্রধান বিচারপতি বি আর গভাই এবং বিচারপতি এ জি মসিহ-এর বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছে। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারণ জানানোর যে নির্দেশ রয়েছে, তা কোনও নেহাত প্রক্রিয়াগত বিষয় নয়—এটি ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক সুরক্ষা।
রায় না মানলে গ্রেপ্তার বেআইনি:
আদালতের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি গ্রেপ্তারের পর তৎক্ষণাৎ লিখিত নথি দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে প্রথমে মৌখিকভাবে কারণ জানানো যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে, রিমান্ডের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অভিযুক্তকে তোলার দুই ঘণ্টা আগেই সেই কারণ লিখিত নোটিশে অভিযুক্তের হাতে তুলে দিতে হবে। যদি এই নির্দেশ না মানা হয়, তাহলে গ্রেপ্তার বেআইনি বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মুক্তির দাবি জানাতে পারবেন।
বিচারপতি মসিহের ৫২ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়েছে, “সংবিধানের এই নির্দেশ কেবল মুখে বললেই চলবে না। লিখিতভাবে অভিযুক্তকে জানানো অপরিহার্য। পাশাপাশি তা অবশ্যই এমন ভাষায়, যা তিনি বুঝতে পারেন।”
২০২৪ সালের আলোচিত মুম্বই বিএমডব্লিউ হিট অ্যান্ড রান কাণ্ডের অভিযুক্ত মিহির রাজেশ শাহের মামলা ঘিরে এই রায় এল। শাহের অভিযোগ ছিল, গ্রেপ্তারের সময় তাঁকে লিখিতভাবে কারণ জানানো হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট যুক্তি দিয়েছে যে, লিখিত নথি কেবল অভিযুক্তের অধিকার রক্ষা করে না, বরং তদন্তকারী সংস্থাকেও প্রমাণ করতে সাহায্য করে যে তারা আইন মেনেই গ্রেপ্তার করেছে। এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এমনকি রাষ্ট্রও নয়। গ্রেপ্তার মানে আইনসম্মত, স্বচ্ছ এবং ব্যক্তির অধিকারকে সম্মান জানিয়ে পদক্ষেপ। এই রায়ের কপি সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিব ও সব উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠাতেও হবে।