গ্রেটার বাংলাদেশ’ গড়ার গোপন ছক! মমতার সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে তোপ দাগলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে সোমবার এক নতুন বিস্ফোরক মন্তব্য করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন একটি প্রকাশ্য জনসভা থেকে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত শক্ত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে ‘ককローチ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং তথাকথিত ‘দিমাগ কা নক্সাল’ বা ‘টুকরো-টুকরো গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে কঠোর হুংকার ছাড়েন। শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে রাজ্য-রাজনীতির পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।
মাত্র একদিন আগেই সিজেপি-র প্রভাবের সঙ্গে ক্ষতিকর কীট পতঙ্গ ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তুলনা টেনেছিলেন তিনি। এদিন সেই সুর আরও চড়াতে দেখা যায় তাঁকে। শুভেন্দু দাবি করেন, পিএম মোদির জাতীয়তাবাদী আদর্শের সঙ্গেই গোটা দেশের সুরক্ষা জড়িত। তাই এই ধরনের শক্তিগুলোকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, ‘ককローチ’ বা ‘খটমল’-এর মতো এই অপশক্তিগুলো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে, যাদের বিরুদ্ধে সময়মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এদিনের অনুষ্ঠানে বিগত সরকারগুলোর বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পূর্বের সরকারগুলোর জাতীয়তাবাদের ন্যূনতম ধারণাটুকুও ছিল না। তারা সবসময় তুष्टीकरणের রাজনীতিতে ব্যস্ত থেকে বাংলাকে একটি বিশেষ লক্ষ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। অতীতে রাজ্যের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাবাবেগকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে ভিনদেশি স্লোগান বা নিজস্ব এজেন্ডা চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিক জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে তুলতে স্কুল-কলেজে নিয়মিত ক্যুইজ, বিতর্ক সভা ও বক্তৃতার আয়োজন করার জোরদার সওয়াল করেন তিনি।
বামেদের ৩৪ বছরের নাস্তিক্য শাসন এবং পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে বাংলার নিজস্ব কৃষ্টি ও ঐতিহ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে তোপ দাগেন শুভেন্দু। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে এনসিসি (NCC)-এর মতো দেশগঠনমূলক সংস্থাকে কোণঠাসা করার গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল এবং তার বদলে অন্য সমান্তরাল বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছিল পূর্ববর্তী সরকার। বাংলার মাটি থেকে সমস্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ও ‘টুকরো-টুকরো গ্যাং’-এর মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।