গ্রহের টানেই নিজের চাঁদকে গিলে খেয়েছিল শুক্র! মহাকাশ গবেষণায় বিরাট রহস্যভেদ!

পৃথিবীর জমজ ভাই হিসেবে পরিচিত শুক্র গ্রহকে নিয়ে দীর্ঘদিনের এক বড় রহস্যের সমাধান করলেন বিজ্ঞানীরা। আকৃতি, ভর ও পাথুরে গঠনের দিক থেকে পৃথিবীর সঙ্গে আকাশ-পাতাল মিল থাকলেও শুক্র গ্রহের কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদ নেই। সৌরজগতে শুক্র ও বুধ—এই দুটি মাত্র গ্রহই উপগ্রহহীন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুক্রের কি গোড়া থেকেই কোনো চাঁদ ছিল না, নাকি অতীতে কোনো এক সময় তার চাঁদ থাকলেও তা ধ্বংস হয়ে গেছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভারসাইড ক্যাম্পাসের গবেষক স্টিফেন আর কেইন-এর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে যুগান্তকারী তথ্য সামনে এনেছেন।

বিজ্ঞানীরা একটি জটিল মডেল তৈরি করে খতিয়ে দেখেছেন যে, শুক্রের যদি অতীতে কোনো কাল্পনিক চাঁদ থাকত, তবে তার মহাকর্ষীয় টানাপোড়েনের ফলে কী পরিণতি হতে পারত। কোটি কোটি বছরের হিসাব কষে গবেষকরা অবাক করা তথ্য পেয়েছেন। তাঁদের সিমুলেশন বলছে, পৃথিবীর চাঁদের মতো শুক্রের চাঁদ নিরাপদে দূরে সরে যেতে পারেনি। বরং শুক্রের প্রচণ্ড মহাকর্ষ বলের প্রভাবে উপগ্রহটি তার কক্ষপথ হারিয়ে উল্টে গ্রহের দিকেই ফিরে আসত এবং গ্রহের কাছে আসতেই টুকরো টুকরো হয়ে ধ্বংস হয়ে যেত। অর্থাৎ, সহজ কথায় শুক্র গ্রহ নিজেই নিজের চাঁদকে আক্ষরিক অর্থে গিলে খেয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদটি বড় আকারের হলে তা আরও দ্রুত ধ্বংস হয়ে যেত, কারণ বড় উপগ্রহ শুক্রের ঘূর্ণন থেকে অতিরিক্ত শক্তি শুষে নিত।

তবে বিজ্ঞানীরা এও জানিয়েছেন যে, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে চাঁদটি হয়তো বেঁচেও যেতে পারত। যেমন, যদি অতীতে শুক্র গ্রহের নিজস্ব ঘূর্ণন আজকের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত হতো এবং সেখানে একটি দিন ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে শেষ হতো, তবে হয়তো উপগ্রহটি স্থিতিশীল কক্ষপথে টিকে থাকতে পারত। কিন্তু শুক্রের সুপ্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এই শর্তগুলির সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায় না। কোটি কোটি বছর আগের এই মহাজাগতিক ঘটনার সরাসরি বা চাক্ষুষ প্রমাণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হলেও, বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে নাসার আসন্ন ‘ডাভিঞ্চি’ (DAVINCI) মিশনের মতো ভবিষ্যতের উন্নত মহাকাশ অভিযানগুলি শুক্রের বায়ুমণ্ডল ও রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে এই রহস্যের আরও স্পষ্ট হদিস দিতে পারবে।