গোয়ার জনপ্রিয় বাগা সমুদ্রসৈকতের কাছে স্থিতু আরপোরায় একটি নৈশক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং তাতে ২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত দুই ক্লাব মালিক, গৌরব লুথ্রা এবং সৌরভ লুথ্রা প্রশাসনকে ‘ফাঁকি দিতে’ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। এই আবহে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল-এর ব্লু কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কী এই ব্লু কর্নার নোটিস?
ব্লু কর্নার নোটিস হলো ইন্টারপোল দ্বারা জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি। যখন কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালান, তখন আন্তর্জাতিক স্তরে অন্য দেশগুলোর সরকার এবং প্রশাসনকে সেই অভিযুক্ত সম্পর্কে অবগত করার জন্য এই নোটিস ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে অভিযুক্তের গতিবিধি শনাক্ত করে অবস্থান নির্ণয় করা সহজ হয়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুথ্রা ভাইদের বিরুদ্ধেই এই নোটিস জারি হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের সহযোগী অজয় গুপ্তের বিরুদ্ধেও লুক-আউট নোটিস জারি করেছে পুলিশ।
কেন এত বড় বিতর্ক?
গত শনিবার গভীর রাতে জনপ্রিয় এই নৈশক্লাবে প্রায় ১২টার সময় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। খবর পৌঁছয় রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ। আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, দমবন্ধ ধোঁয়ার কারণে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুলিশ সূত্রে খবর, এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২৫ জন, যার মধ্যে ১৪ জনই ছিলেন ক্লাবের কর্মী।
প্রাথমিক তদন্তে ক্লাবের চরম গাফিলতির দিকটি সামনে এসেছে। নথিপত্র খতিয়ে দেখা যায়—ক্লাবটিতে অগ্নি নিরাপত্তার চরম অভাব ছিল, দমকলের ছাড়পত্র ছিল না এবং অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রেরও অভাব ছিল। এত বড় গাফিলতি থাকা সত্ত্বেও ক্লাবটি দিনের পর দিন ধরে রমরমিয়ে চলছিল এবং লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছিল।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ক্লাবের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিলেও, ততক্ষণে তাঁরা দেশছাড়া। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার বিমানে করে এই দুই অভিযুক্ত থাইল্যান্ডে পালিয়ে যান এবং সেখানেই গা ঢাকা দিয়েছেন। এই গাফিলতি ও মালিকদের পলায়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোয়া প্রশাসন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।