ফুটবল তারকা এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে কলকাতায় এনে যখন সব ঠিকঠাক রেখেছিলেন, তখন আয়োজক শতদ্রু দত্ত ছিলেন নায়ক। কিন্তু লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) আনতে গিয়ে উল্টো ফল হলো। যুবভারতীতে বেনজির বিশৃঙ্খলার জেরে তিনি এখন গ্রেফতার এবং জনগণের কাছে খলনায়ক।
তবে হুগলির রিষড়ার বাঙুর পার্ক অঞ্চলে শতদ্রুর প্রতিবেশীদের একাংশ তাঁকে ‘গুড বয়’ হিসেবেই জানেন। তাঁদের প্রশ্ন, এবার কেন এমন বিপর্যয় ঘটল?
-
স্থানীয়দের প্রশ্ন: এলাকার এক যুবক রেহান বলেন, “মেসির ফ্যান কত হতে পারে, সেটা তো আমরা সবাই জানি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছেন। নিরাপত্তা অনেকটা বেটার হতে পারত। পুলিশের এই বিষয়টি দেখা উচিত ছিল।” (এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে অব্যবস্থার দায় পুলিশের দিকে ঠেলেছেন স্থানীয়রা।)
খেলোয়াড়দের প্রতি শতদ্রুর ভালোবাসা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শতদ্রু ছোট থেকেই খেলোয়াড়দের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে কাজ করার সুবাদে তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের বাংলায় নিয়ে এসে চমকে দেওয়া শুরু করেন। যে সব খেলোয়াড়কে এক ঝলক দেখার জন্য মানুষ পাগল, তাঁদেরকেই টার্গেট করতেন তিনি।
-
বাড়িতে মাঠ: খেলোয়াড়দের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ মেলে যখন তিনি তাঁর বাড়ির ছাদে ফুটবল মাঠ তৈরি করেন।
-
আগের তারকা: পেলে, কাফু, মার্টিনেজ, রোনাল্ডিনহোকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন তিনি।
মেসিকে আনার নেপথ্যে শতদ্রুর চেষ্টা
এলাকাবাসীর দাবি, এবার মেসিকে আনতে শতদ্রুকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। তিনি মেসির বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করেন এবং রাজি করান। এরপর মেসির সঙ্গে দিনক্ষণ ঠিক করেন।
কিন্তু যুবভারতীতে চূড়ান্ত অব্যবস্থার কারণে সেই ঐতিহাসিক শো ভেস্তে যাওয়ায় সবাই হতাশ।
গ্রেফতার ও আদালত: বিশৃঙ্খলার পর শনিবার হায়দরাবাদে মেসির সঙ্গে যাওয়ার সময়ই পুলিশ শতদ্রুকে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। আগামীকাল তাঁকে বিধাননগর আদালতে তোলা হবে।