গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় অসম সরকার

প্রয়াত জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে পাঠানো তার ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ডুবে মৃত্যু’ (drowning) উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনায় আরও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে এটি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নয়, এবং সরকার দ্রুত সেই রিপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গাপুর হাই কমিশন থেকে পাঠানো মৃত্যু শংসাপত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ডুবে যাওয়া’র কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সিঙ্গাপুর হাই কমিশন জুবিন গার্গের মৃত্যুর শংসাপত্র পাঠিয়েছে, এবং সেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডুবে যাওয়া উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আলাদা, এবং মৃত্যুর শংসাপত্র আলাদা। আমরা নথিগুলি সিআইডি-তে পাঠাব।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, অসম সরকারের মুখ্য সচিব দ্রুত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় জুবিনের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছিল। তিনি সেখানে উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের জন্য গিয়েছিলেন। আয়োজকরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় জুবিন শ্বাসকষ্টের শিকার হন। তাকে দ্রুত সিপিআর (CPR) দেওয়া হয় এবং সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে বাঁচানোর সব চেষ্টা করা সত্ত্বেও, ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ২:৩০ মিনিটে আইসিইউ-তে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

সিঙ্গাপুর থেকে জুবিনের মরদেহ প্রথমে দিল্লিতে এবং পরে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে গুয়াহাটিতে নিয়ে আসা হয়, যা রবিবার সকালে গুয়াহাটিতে পৌঁছায়।

রবিবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে গায়কের শেষকৃত্য মঙ্গলবার সকালে কামারকুচি গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্স থেকে জুবিন গার্গের মরদেহ কামারকুচিতে নিয়ে যাব, যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।”

জুবিনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রবিবার হাজার হাজার ভক্ত অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ভিড় জমান। বর্তমানে প্রয়াত গায়কের মরদেহ সেখানেই রাখা হয়েছে, যাতে তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।