গাড়ি উঠতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল দেওশাল সেতু! শীতলকুচিতে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেলেও তীব্র আতঙ্ক দুই পাড়ে

সামান্য একটু যাতায়াতের মাধ্যমেই যে কত বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও প্রত্যক্ষ উদাহরণ দেখা গেল কোচবিহার জেলার শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের ছোট শালবাড়ি এলাকায়। রবিবার সকালেই আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘দেওশাল ব্রিজ’ বা সেতুটি। ছুটির দিনের সকালে হঠাৎ এই সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বড়সড় কোনো প্রাণহানি বা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে প্রাথমিক স্বস্তির খবর মিলেছে, কিন্তু এই সেতু ধসের ফলে দুই পাড়ের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন এবং যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার সকালে নিয়মিত চলাচলের সময় একটি যাত্রীবাহী বা ভারী চারচাকা গাড়ি সেতুটির ওপর উঠতেই সেটি আর গাড়ির ভার সহ্য করতে পারেনি। চোখের পলকে সেতুটির একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে নিচে খাদের বা জলের ওপর ধসে পড়ে। গাড়িটি কোনোমতে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। শীতলকুচির ছোট শালবাড়ির এই দেওশাল ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান lifeline বা সংযোগকারী পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির জেরে দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষের নিত্যদিনের যোগাযোগ পুরোপুরি ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এলাকার মানুষের জোরালো অভিযোগ, এই সেতুটির বেহাল দশা বা দুর্বল অবস্থার কথা নতুন নয়; বরং গত বেশ কয়েক বছর ধরেই সেতুটি চরম জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেই সেতুর দুই প্রান্তে একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সেটিকে ‘দুর্বল সেতু’ বা ‘Weak Bridge’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে যে, যদি প্রশাসন আগে থেকেই সেতুটির দুর্বলতার কথা জানত, তবে কেন সময়মতো এর স্থায়ী সংস্কার, মেরামত বা পুনর্নিমাণের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলো না? কেন বিগত সরকার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষগুলি এই জনবহুল এলাকার মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি এত অবহেলার চোখে দেখল?

সেতু ভেঙে পড়ার এই ঘটনার জেরে এলাকার নিত্যদিনের যাতায়াত ব্যবস্থা তো বটেই, সেই সঙ্গে জরুরিকালীন চিকিৎসা পরিষেবা, স্কুল-কলেজে পড়ুয়াদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিরাট বড় বাধার সৃষ্টি হয়েছে। রোগীর দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া কিংবা ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী হওয়া—সবকিছু নিয়েই এখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শীতলকুচির দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ এখন চরম দুর্ভোগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। তবে সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—দ্রুত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিকল্প কোনো যাতায়াতের ব্যবস্থা বা বেইলি ব্রিজ তৈরি করা হোক এবং ভেঙে পড়া এই দেওশাল সেতুর স্থায়ী পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হোক। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের তরফ থেকে ঠিক কত দ্রুত এই সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করা হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কতদিনে লাঘব হয়।