খামার থেকে সোজা গাড়ির ট্যাঙ্কে! চোখের পলকে কীভাবে বদলে গেল দেশের গোটা চিনি শিল্পের চিত্র?

বর্তমান সময়ে চিনির লাগামছাড়া দাম নিয়ে বাজারজুড়ে নানা আলোচনা ও জল্পনা চলছে। অনেকেই এর জন্য ইথানল উৎপাদনকে সরাসরি দায়ী করলেও, আসল ছবিটা কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বিগত এক দশকে দেশের চিনি শিল্প এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। রেকর্ড পরিমাণ আখের উৎপাদন, কৃষকদের বকেয়া পাওনা মেটানোর গতি এবং ইথানল মিশ্রণের মতো কৌশলগত পদক্ষেপে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও চিনি শিল্পের চিত্রটাই আজ সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
পরিসংখ্যান যা বলছে: সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় অগ্রিম প্রাক্কলন অনুযায়ী দেশে আখের উৎপাদন রেকর্ড ৫৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টনে (MMT) পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল ৩৪৮.৪৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন, গত ১০ বছরে তা প্রায় ৪৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি, আখ চাষের আবাদি জমিও ৪.৯২৭ মিলিয়ন হেক্টর থেকে বেড়ে ৫.৮৮৭ মিলিয়ন হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। মূলত উত্তর প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রই ভারতের প্রধান আখ উৎপাদনকারী রাজ্য হিসেবে এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে।
ইথানল নীতি ও কৃষকদের আর্থিক স্বস্তি: চিনি শিল্পের এই রূপান্তরের পেছনে অন্যতম বড় অনুঘটক হলো ইথানল মিশ্রণ নীতি। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট ইথানলের প্রায় ৭৫ শতাংশই চিনির পরিবর্তে ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য থেকে তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ২০২২-২৩ সালের প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার নেমে এসেছে মাত্র ৯ শতাংশে। অন্যদিকে, চিনিকলগুলির আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী হওয়ায় চলতি মৌসুমে আখের মোট পাওনার ৯৭ শতাংশেরও বেশি সরাসরি কৃষকদের মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অন্নদাতাদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।
মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কড়া পদক্ষেপ: বাজারে চিনির দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতেও বিশেষ নজর দিয়েছে কেন্দ্র। ব্যবসায়ীদের ওপর ৪০০ টনের মজুত সীমা আরোপ করার পাশাপাশি মিলগুলিকে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন করে চিনি মাড়াই শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপের ফলেই গত দুই বছরে চিনির খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত দামের চাপ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।