কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসা বাংলার ঐতিহ্যবাহী সূক্ষ্ম সুতির মসলিন কাপড় আবার নতুন করে ফিরতে শুরু করেছে ‘খাদি’-র হাত ধরে। এর ফলে নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের প্রায় হারিয়ে যাওয়া মসলিন কাপড়ের শিল্পীরাও ফের তাঁদের কাজে ফিরতে শুরু করেছেন।
খাদি পর্ষদের দাবি, একসময় রুটি-রুজির টানে অনেকেই খেত-মজুরের কাজ বা অন্য পেশায় নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু এখন মহিলারা তো বটেই, পুরুষরাও এই সূক্ষ্ম সুতির কাপড় তৈরিতে মন দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদে আয়োজিত খাদি মেলায় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ক্রেতা টানতে এই বিশেষ মসলিনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, একসময় এই অঞ্চলের সিল্ক প্রাচ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করত।
কম মজুরি সত্ত্বেও ঐতিহ্য রক্ষা:
ডোমকল থেকে আসা শিল্পী সাজিদা বিবি জানান, তিনি-সহ বেশ কয়েকজন মহিলা এখনও এই সুতো তৈরি করে কাপড় ও বিভিন্ন জামার পিস তৈরি করেন। ঘরের সংসার সামলে একটি শাড়ি তৈরি করতে তাঁদের সময় লাগে প্রায় দু’দিন। অথচ এই সূক্ষ্ম কাজের জন্য মজুরি মেলে মাত্র ৩০০ টাকা। সাজিদা বিবির আক্ষেপ, “আমরা এই শাড়ি তৈরি করে এখন আর সেই ভাবে মজুরি পাই না। তবুও সূক্ষ্ম সুতির মসলিন কাপড় তৈরি করে থাকি।”
মসলিন শব্দের উৎস অবশ্য ভিন দেশে। ইতিহাস বলে, টাইগ্রিস নদীর ধারে মেসোপটেমিয়ার মোসুল শহর এই অতি সূক্ষ্ম সুতিবস্ত্র তৈরিতে বিখ্যাত ছিল। সেই মোসুল থেকেই মসলিন শব্দটি এসেছে। এ দেশের তাঁত শিল্পীরাও এমন সূক্ষ্ম বুননে সিদ্ধহস্ত ছিলেন যে, আস্ত একটা কাপড় আংটির ভিতর দিয়ে গলে যেতে পারত।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুনরুজ্জীবন:
অতীতে মুখ্যমন্ত্রীও মসলিন শিল্পকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশিকার সূত্র ধরে শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস ফেরানো, আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা, নতুন প্রযুক্তির লুম ও চরকার বন্দোবস্ত এবং মসলিনের নকশা ও বিপণনে জোর দেওয়া হয়েছে।