“ক্ষমতা বদলই আসল লক্ষ্য!” প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যে আগুন, জেন-জি ঢঙে তুলোধোনা ফড়ণবীশের

সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী তথা প্রখ্যাত সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণের ‘শাসন পরিবর্তন’ (Regime Change) সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের চলমান আন্দোলনকে হাতিয়ার করে বিজেপি এখন পালটা আক্রমণ শানিয়েছে। শাসকদলের দাবি, বিরোধীদের এই প্রতিবাদের মূল লক্ষ্য মোটেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা কমিশনের সংস্কার নয়, বরং চক্রান্ত করে সরকার উৎখাত করা। এই ইস্যুতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের ভাষায় প্রশান্ত ভূষণ ও বিরোধী জোটকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে সরব রয়েছে। এরই মধ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে তেলাপোকা জনতা পার্টির (CJP) নেতা অভিজিৎ দীপকের উপস্থিতিতে প্রশান্ত ভূষণ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকার অভিযোগ করছে যে বিরোধীরা শাসন পরিবর্তন চায়। আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করছি। কিন্তু এই ধরনের দমনপীড়ন ও বর্বরতা চলতে থাকলে ক্ষমতা পরিবর্তন নিশ্চিত। হ্যাঁ, আমরা সবাই ক্ষমতা পরিবর্তন চাই, এতে ভুলের কী রয়েছে?” তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান অনুযায়ী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ও আন্দোলন করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার।
প্রশান্ত ভূষণের এই বক্তব্যের জবাব দিতে মুহূর্তও দেরি করেননি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ জেন-জি ধাঁচে পোস্ট করে ফড়ণবীশ লেখেন, “কাজটা হয়ে গেছে ভাই, সব ফাঁস হয়ে গেছে!! আসল সত্যটা এতদিন মনের গভীরে লুকানো ছিল, যা আজ অবশেষে মুখে চলে এসেছে। পুরো খেলাটাই আসলে ক্ষমতার আসনে বসার লড়াই! আর সেই কারণেই কি ছাত্র ও কৃষকদের উসকে দেওয়া হচ্ছে, জাতি ও ভাষার নামে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে এবং দেশের সম্মানিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে? আন্দোলনের আড়ালে দেশজুড়ে নৈরাজ্য ছড়ানোই এদের একমাত্র উদ্দেশ্য।” ফড়ণবীশের এই মন্তব্যের পর বিরোধী জোট ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন চরম রূপ নিয়েছে।