ক্যামাক স্ট্রিটে ধাক্কা ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর! হাইকোর্টে মিলল না স্বস্তি, বড় ধাক্কা খেল শাসকশিবির

ক্যামাক স্ট্রিট এলাকায় সাইনবোর্ড অপসারণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্ক ও পুলিশি সংঘাতের ঘটনায় আইনি লড়াইয়ে বড় রকমের ধাক্কা খেল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে এই মামলায় তাদের সমস্ত আর্জি প্রাথমিক পর্যায়েই খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, যেহেতু ইতিমধ্যেই বিতর্কিত সাইনবোর্ড ও হোর্ডিং ভেঙে ফেলার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে, তাই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়া বা কোনো রক্ষাকবচ দেওয়ার মতো অনুকূল আইনি পরিস্থিতি নেই।

মামলার শুনানিকালে আদালতের মাননীয় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা বা পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং তার বাস্তবায়নও ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে, সেই সম্পন্ন হয়ে যাওয়া কাজকে হুট করে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে আদালত এই আবেদনকে সম্পূর্ণ ‘প্রিম্যাচিওর’ বা অকালপক্ব বলে অভিহিত করেছে।

আইনি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর তরফ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মূলত তিনটি প্রধান আর্জি পেশ করা হয়েছিল। তাদের প্রথম এবং প্রধান আবেদন ছিল, কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে গতকাল যে সাইনবোর্ডগুলি জোর করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সেগুলিকে অবিলম্বে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আদালত সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। তাদের দ্বিতীয় আবেদনটি ছিল ভবিষ্যতের উদ্দেশ্যে—যেখানে তারা চেয়েছিল, আদালত যেন কলকাতা পুরসভা বা অন্যান্য পৌর সংস্থাকে নির্দেশ দেয় যাতে আগামী দিনে তারা এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে। বিচারপতি এই সার্বিক ও আগাম নির্দেশ জারির আর্জিও মান্যতা দেননি, কারণ কোনো সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা বা ভবিষ্যতের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের ঢালাও নির্দেশ দেওয়া আইনগতভাবে সঠিক নয়।

এর পাশাপাশি, তাদের তৃতীয় ও অন্তিম আবেদনে বলা হয়েছিল যে, গত কালকের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কোন কোন পুর আধিকারিক ও পুলিশ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম আদালতের কাছে জমা দেওয়া হোক এবং তাঁদের এই মামলার পক্ষ বা পার্টি করা হোক। কলকাতা হাইকোর্ট এই তৃতীয় আবেদনটিও সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে। ফলে, এই হাই-প্রোফাইল মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর করা তিনটি প্রধান আবেদনই আদালতের সবুজ সঙ্কেত পেল না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি ধাক্কার ফলে ক্যামাক স্ট্রিট কার্যালয় ও হোর্ডিং বিতর্ক ঘিরে শাসকশিবিরের ওপর চাপ আরও অনেকটাই বৃদ্ধি পেল।