কোলিয়ারিতে হালকা কাজের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার উৎকোচ? ইসিএল কর্মীর বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ঝটিকা অভিযান

পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর থানার অন্তর্গত সাউথ শ্যামলা কোলিয়ারির ইসিএল (ECL) কর্মীর দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কয়লা খনিতে কর্মরত এক কর্মীর কাজের রদবদল এবং শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এবার সরাসরি সিবিআই (CBI)-এর স্ক্যানারে পড়েছে পাণ্ডবেশ্বরের ইসিএল অফিস। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা একযোগে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইসিএল কর্মী সংকর্ণন হরিজনের ব্যক্তিগত বাসস্থান এবং স্থানীয় ইসিএল কার্যালয়ে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছে। এই ঝটিকা অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর।
গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, সাউথ শ্যামলা কোলিয়ারির এক কর্মী গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তুলনামূলকভাবে হালকা কাজের বা ‘লাইট ডিউটি’-র আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে, সেই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ইসিএল কর্মী সংকর্ণন হরিজন ওই অসুস্থ কর্মীর কাছ থেকে কাজের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের উৎকোচ বা ঘুষ দাবি করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই তৎপর হয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং দুর্নীতির শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখতেই এই যৌথ অভিযান চালানো হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তল্লাশি অভিযানে অফিস ও বাসস্থান—উভয় স্থান থেকেই একাধিক গোপন নথি ও তথ্যপ্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তবে সিবিআই হানার সময় মূল অভিযুক্ত সংকর্ণন হরিজনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি, তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। কিন্তু এই দুর্নীতির সুতো ধরে এগোতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের ছেলে পঙ্কজ হরিজনকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গেছেন সিবিআই কর্তারা। একজন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জানান যে, সিবিআই আধিকারিকরা এসে দীর্ঘক্ষণ ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়েছেন এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখেছেন।
প্রাথমিক তদন্তের পর এখন মূল প্রশ্ন উঠছে যে, কাজের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে কি এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে আরও কোনো অসাধু আর্থিক লেনদেন চলত? এই ঘুষ চক্রের পেছনে কি ইসিএল-এর আরও কোনো রাঘববোয়াল বা বড়ো কোনো আধিকারিক সরাসরি জড়িত রয়েছেন? বর্তমানে আটক পঙ্কজ হরিজনকে লাগাতার জেরা করে এবং উদ্ধার হওয়া নথিগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে পুরো সিন্ডিকেটের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে সিবিআই।