বিধানসভার ফ্লোর থেকে বিরাট হুংকার মুখ্যমন্ত্রীর! বাবাকে নিয়ে তুলকালাম কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ

আজকের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন ঝড় তুলে বিধানসভার ফ্লোর থেকে সরাসরি চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে গোটা রাজ্যজুড়ে যখন প্রতিবাদের ঝড় বইছে, ঠিক তখনই পুলিশ কমিশনারকে এক হাত নিয়ে সরাসরি বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করার কড়া নির্দেশ দিলেন তিনি। বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলায় সাধু-সন্ত ও গেরুয়া বস্রকে অসম্মান করার এই প্রবণতা আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি লিলুয়ায় অনুষ্ঠিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সেখানে আমিষভোজী বাঙালিকে নিয়ে বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর করা একটি বিশেষ মন্তব্যকে হাতিয়ার করে রাজ্যজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। তাঁর ওই মন্তব্য সমাজে ধর্মীয় বিভেদ ও অশান্তি সৃষ্টি করছে—এই মর্মে দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরাসরি ভবানীপুর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। শুধু আইনি অভিযোগ দায়ের করাই নয়, থানার সামনে জড়ো হয়ে বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে তুমুল বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব ও কর্মীরা। এই পুরো ঘটনাটিই তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয় গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।

বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে একটি বিশেষ একদিনের অধিবেশন ও আলোচনা চলছিল। সেই অধিবেশনেই বক্তৃতা দিতে উঠেই ভবানীপুর থানার সামনের বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের লিলুয়াতে একজন সন্ত এসেছিলেন। তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা তিনি নিজের মতো করে তুলে ধরেছেন। যাঁদের ভালো লাগবে তাঁরা গ্রহণ করবেন, যাঁদের লাগবে না করবেন না। তিনি তো কারও ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেননি। কিন্তু আমি দেখলাম, কিছু লোক ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। আমি এখান থেকে সিপি-কে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিচ্ছি, অবিলম্বে ওই লোকগুলোকে অ্যারেস্ট করতে হবে।”

এর পরেই রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “গেরুয়া শব্দের অপমান করার আগে একবার নয়, পাঁচবার ভাববেন। সাধু-সন্ত সমাজকে অবমাননা করার রাজনীতি এবার বন্ধ হওয়া দরকার। তুষ্টিকরণের রাজনীতি আপনারা অনেক করেছেন। এই ধরনের তোষণ নীতির জন্যই আপনাদের বর্তমান সংখ্যা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আগামী উপনির্বাচনের পর আমাদের সংখ্যা আরও বাড়বে।” বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি, এদিনের বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পেশ হওয়া শিক্ষা সংক্রান্ত নতুন বিল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোরদার বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ অনুযায়ী, এখন থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের বদলি করা সম্ভব হবে। অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বদলির জন্য যে সমস্ত নিয়ম বা ভিত্তি প্রযোজ্য হয়, শিক্ষা ক্ষেত্রেও সেই একই নীতি কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকারা রাজ্যের পিছিয়ে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় এক সঠিক সামঞ্জস্য বজায় থাকবে। তবে সরকারের এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে একাধিক অধ্যাপক সংগঠন ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই বিল সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার ওপর এক ধরনের নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। সব মিলিয়ে, বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক এবং শিক্ষাক্ষेत्रের নতুন বিলের জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty