কে এই চিকিৎসক শাহিনা? জইশ মডিউলের নারী-শাখা, আত্মঘাতী যোদ্ধা তৈরির অনলাইন কোর্স চালাচ্ছে মাসুদ আজহারের বোন

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই নাশকতার ঘটনার তদন্তে এবার পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের নাম উঠে এল। সাদিয়া জইশের মহিলা শাখা ‘Jamal-ul-Muminat’-এর প্রধান।
তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, জইশের মহিলা শাখার সংযোগ উঠে এসেছে এই বিস্ফোরণ কাণ্ডে। জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলা এবং চলতি বছর এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও হামলার পর ভারত যখন পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায়, তখন মাসুদের পরিবারের ১০ সদস্য মারা যায়, যার মধ্যে সাদিয়ার স্বামী ইউসুফ আজহারও ছিল। এই অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই সাদিয়াকে মাথায় রেখে জইশ মহিলা শাখাটি তৈরি করে মাসুদ।
গ্রেফতার: ফরিদাবাদে রাসায়নিক ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় লখনউয়ের লালবাগ এলাকার বাসিন্দা, পেশায় চিকিৎসক শাহিনা শহিদ নামের এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ভারতে ‘Jamal-ul-Muminat’-এর হয়ে কাজ করছিলেন।
ডাক্তার উমর ও শাহিনার সংযোগ: শাহিনা যে আল-ফালাহ্ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত, সেখানে কাশ্মীরি চিকিৎসক মুজাম্মিল গানাইও কর্মরত ছিলেন। ফরিদাবাদে মুজাম্মিলের ভাড়াবাড়ি থেকেই বিস্ফোরক উদ্ধার হয়, যিনি জইশের সমর্থনে শ্রীনগরে পোস্টার লাগিয়েছিলেন। তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
অনলাইন কোর্স: ISIS ও LTTE-এর মডেলে তৈরি এই মহিলা সংগঠনটি মেয়েদের নিযুক্ত করতে ‘শিক্ষাদান ও নিয়োগ’-এর অনলাইন কোর্স চালু করে। ধর্মশিক্ষার পাশাপাশি জিহাদ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেখানে। সাদিয়ার পাশাপাশি, মাসুদের আরেক বোন সামাইরা আজহারকেও এই অনলাইন কোর্স পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। লক্ষ্য—অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের ফিদায়েঁ বা আত্মঘাতী বাহিনীতে নিয়োগ করা।
পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরের ‘মর্কজ উসমান-ও-আলি’ থেকে মাসুদ আজহার এই মহিলা শাখার ঘোষণা করেছিল। লালকেল্লার মতো পর্যটনকেন্দ্রে এই ধরনের হামলার নেপথ্যে জইশের এই নতুন নারীশক্তির ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)।