‘কেসের ফিস না পেয়েই বিদ্রোহ’, তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল নিয়ে বিস্ফোরক অর্জুন সিং

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ক্রমশই প্রকাশ্যে আসছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারস্পরিক সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক সেই মুহূর্তে সুর চড়ালেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। দুজনকে একযোগে আক্রমণ করে অর্জুন সিং যে মন্তব্য করেছেন, তা নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

শুক্রবার এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং সরাসরি আক্রমণ করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে ‘জোকার’ বলে সম্বোধন করে অর্জুন সিং বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন জোকার। উনি এখন যা কিছু বলছেন বা যে ধরনের বিদ্রোহের সুর তুলছেন, তার পেছনে আদর্শগত কোনো কারণ নেই। আসলে বড় কোনো কেসের ফিস পাননি বলেই উনি এখন বিদ্রোহী সাজছেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে অর্জুন সিং বোঝাতে চেয়েছেন যে, তৃণমূলের অন্তর্কলহ কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতও এর অন্যতম কারণ।

শুধু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, অর্জুন সিং এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করতে ছাড়েননি। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের ভেতরে এখন কোনো শৃঙ্খলা নেই। যার যা ইচ্ছা হচ্ছে বলে বেড়াচ্ছেন। অর্জুন সিংয়ের কথায়, “দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং একজন বর্ষীয়ান সাংসদের মধ্যে যেভাবে প্রকাশ্যে বাগযুদ্ধ চলছে, তা প্রমাণ করে দল এখন অভিভাবকহীন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ।”

বিজেপি নেতার এই আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্জুন সিং অত্যন্ত সুকৌশলে তৃণমূলের ভেতরের ফাটলকে জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের অন্দরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, অর্জুন সিং সেই ক্ষতস্থানেই লবণ ছিটিয়ে দিলেন।

অর্জুন সিং আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এখানে যোগ্যতার কোনো দাম নেই। ফিস বা টাকার বিনিময়েই সব সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ফিস পাচ্ছিলেন, তখন সব চুপ ছিলেন। এখন ফিস নেই, তাই সব অন্যায় মনে হচ্ছে।”

অর্জুন সিংয়ের এই বিস্ফোরক বয়ান তৃণমূলের অস্বস্তি যে আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূলের অন্দরে এই ধরনের মন্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে এই কথার জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। একদিকে যখন বিরোধীরা একজোট হয়ে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছে, তখন দলের ভেতরের এই কোন্দল তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অর্জুন সিংয়ের এই আক্রমণ শাসকদলের অস্বস্তির পালে যে নতুন হাওয়া দিল, তা স্পষ্ট।