আগামী বছর কেরলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের পুর ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বড়সড় উলটপুরাণ। বাম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ-কে (LDF) পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। একইসঙ্গে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-ও (NDA) অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো ফল করেছে, যা কেরলের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনল।
৯ এবং ১১ ডিসেম্বর দুই দফায় রাজ্যের ৬টি পুরনিগম, ৮৬টি পুরসভা, ১৪টি জেলা পরিষদ, ১৫২টি ব্লক পঞ্চায়েত এবং ৯৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
‘লালদুর্গ’ ভেঙে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়
এই নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এসেছে রাজধানী শহর তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমে, যা বিগত ৪৫ বছর ধরে বামেদের শক্তঘাঁটি ছিল। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের কেন্দ্র এই তিরুঅনন্তপুরমে বামেদের দুর্গ ভেঙে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে এনডিএ।
-
বিজেপির উত্থান: ত্রিশুর লোকসভা আসনে সুরেশ গোপীর জয়ের পরই গেরুয়া শিবিরে এই সাফল্য এল। স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ২০১০ সাল থেকে ধীরে ধীরে বেড়েছে (২০১৫ সালে ৬ থেকে ৩৪), এবং এবার তারা এই শক্তি ধরে রেখে বড় জয় পেল।
-
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজেপির জয়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, “ধন্যবাদ তিরুবনন্তপুরম! তিরুবনন্তপুরম পুরনিগমে বিজেপি-এনডিএ-এর এই জয় কেরলের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। জনগণ নিশ্চিত যে রাজ্যের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা কেবল আমাদের দলই পূরণ করতে পারে।”
ইউডিএফ-এর বাজিমাত
বিজেপির পাশাপাশি এই নির্বাচনে ইউডিএফ-ও নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে:
-
পুরনিগম: ৬টি পুরনিগমের মধ্যে ৪টিতে ইউডিএফ জয়ী হয়েছে। বামফ্রন্ট মাত্র একটি পুরনিগমে জিতেছে।
-
পুরসভা: ৫৪টি পুরসভার সবকটিতে জয় পেয়েছে ইউডিএফ। বামেরা ২৮টি এবং এনডিএ ২টি পুরসভায় জয়লাভ করেছে।
অন্যদিকে, ১৪টি জেলা পঞ্চায়েতের মধ্যে এলডিএফ এবং ইউডিএফ সাতটি করে জিতেছে। ১৫২টি ব্লক পঞ্চায়েতে ইউডিএফ ৭৭টি এবং এলডিএফ ৬৭টি আসন পেয়েছে।
এই জয় প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি কে. সুরেন্দ্রন জানান, বিজেপিকে থামাতে এলডিএফ এবং ইউডিএফ-এর জোট করেও শেষ রক্ষা হয়নি, কারণ জনগণ বিজেপির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “কেরলের মানুষ এলডিএফ-এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই বাস্তবতা আমাদের মেনে নিতে হবে।”