কুয়ায় স্নান করতে নেমেই মর্মান্তিক পরিণতি! রাঁচিতে বাবা ও ১০ বছরের মেয়ের জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড়

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাঁচির চানহো থানা এলাকার চোরিয়া কোলপাড়া গ্রামে কুয়োয় স্নান করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক বাবা এবং তাঁর দশ বছরের মেয়ের। মৃতদের নাম অর্জুন ওরাওঁ এবং তাঁর কন্যা অগস্ত্য ওরাওঁ। একটি সাধারণ দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়ে এভাবে বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে প্রাণ হারানোর ঘটনায় কেবল তাঁদের পরিবারেই নয়, বরং গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে অর্জুন ওরাওঁ তাঁর প্রায় ১০ বছর বয়সী মেয়ে অগস্ত্যকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামেরই একটি কুয়োতে স্নান করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজনের মনে তীব্র আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। এরপর শুরু হয় তাঁদের খোঁজখুবর। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি মাঠের মাঝে অবস্থিত কুয়োর পাড়ে বাবা ও মেয়ের জামাকাপড় এবং চপ্পল পড়ে থাকতে দেখেন।
জামাকাপড় ও চপ্পল পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও তীব্র হয়। এরপর গ্রামবাসীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা না করে বিশেষ যন্ত্র ও কোদালের সাহায্যে কূপের ভেতর তল্লাশি শুরু করেন। আর সেই তল্লাশির পরেই উদ্ধার হয় বাবা ও মেয়ের নিথর মৃতদেহ। কুয়ো থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রামে চরম হুলুস্থুল ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় চানহো থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, মৃত অর্জুন ওরাওঁ কৃষিকাজ এবং কায়িক শ্রমের মাধ্যমেই তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য ছিলেন। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় অর্জুনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার তীব্র জীবিকা সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসেই চন্দ্রতোলি গ্রামের একটি কুয়োয় ডুবে দুই ভাই সুখরাম মুন্ডা ও বিনোদ মুন্ডার মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ছোট ভাই বিনোদ স্নান করতে গিয়ে কুয়োয় পড়ে গেলে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাই সুখরামও কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। একের পর এক এমন কুয়োয় ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামীণ এলাকায় কুয়োগুলির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।