কাশ্মীর জেল থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন! মাসুদ আজহারের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি, ‘চরম মূল্য চোকাতে হয়েছিল’

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তিনি জম্মু-কাশ্মীরের জেলে বন্দি থাকাকালীন পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং সেই চেষ্টার জন্য তাঁকে ‘চরম মূল্য চোকাতে হয়েছিল’

সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি সভায় মাসুদ আজহারের দেওয়া ভাষণের একটি অডিয়ো ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। গোয়েন্দারাও নিশ্চিত করেছেন যে এই কণ্ঠটি মাসুদ আজহারেরই।

কোট ভালওয়াল জেল থেকে পালানোর চেষ্টা:

ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, মাসুদ আজহার স্বীকার করেছেন যে তিনি ১৯৯০-এর দশকে জম্মু-কাশ্মীরের হাই সিকিউরিটি জেল কোট ভালওয়াল থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

  • ব্যর্থতা: মাসুদ আজহার বলেন, পালানোর প্ল্যানের শেষ দিনেই তিনি ধরা পড়ে যান।

  • চরম মূল্য: ধরা পড়ার পর তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং কঠোর অত্যাচার করা হত। মাসুদ আজহার স্বীকার করেন, তিনি এখনও ওই জেল কর্তৃপক্ষকে ভয় পান

  • অত্যাচার: মাসুদ বলেন, পালানোর চেষ্টার পর তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য আরও কঠোর নিয়ম চালু করা হয়। কোনো নিয়ম ভাঙলেই অত্যাচার করা হত এবং তাঁকে চেইন দিয়ে বেঁধে রাখা হত

মাসুদ আজহারের ভারতে গ্রেফতারি ও মুক্তি:

  • গ্রেফতার: মাসুদ আজহার ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভুয়ো পরিচয়পত্র ও পর্তুগিজ পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল জম্মু-কাশ্মীরে জিহাদের বীজ ছড়িয়ে জঙ্গি নিয়োগ করা। ওই বছরই তাঁকে অনন্তনাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

  • বন্দিদশা: ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি জম্মুর হাই সিকিউরিটি জেল কোট ভালওয়াল-এ বন্দি ছিলেন। এই সময়েই তিনি একাধিকবার জেল পালানোর চেষ্টা করেন।

  • মুক্তি: ১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের আইসি-৮১৪ ফ্লাইট হাইজ্যাক করার পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর মাসুদ আজহার পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়ে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠন তৈরি করেন, যা পরবর্তীকালে ভারতে একাধিক বড় জঙ্গি হামলায় যুক্ত ছিল।

ভারতের দাবি প্রমাণিত:

মাসুদ আজহারের এই স্বীকারোক্তি আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে ভারত দীর্ঘদিন ধরে যে দাবি করে আসছে—পাকিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে—তা সম্পূর্ণ সত্য।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পহেলগাঁও হামলার পর প্রতিশোধ নিতে ভারত পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর চালিয়ে মিসাইল স্ট্রাইক করেছিল। সেই হামলায় মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ জন সদস্য এবং চারজন জঙ্গি নিহত হয়েছিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy