কলেজ স্ট্রিট থেকে টাংরার চাইনাটাউন—নতুন মেগা মেকওভারে রূপ বদলাচ্ছে পুরো শহর!

পশ্চিমবঙ্গের শহুরে পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। নগরোন্নয়ন ও পুর দফতরের উদ্যোগে সরকারিভাবে জাতীয় ভবন নির্মাণ সংস্থা (NBCC)-র সঙ্গে মোট নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা হিসেবে এনবিসিসিকে যুক্ত করে কলকাতা ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার আধুনিকীকরণের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।

এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া। এলাকার শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক আমেজ পুরোপুরি বজায় রেখে সেখানে আধুনিক নাগরিক সুবিধা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, টাংরার বিখ্যাত চাইনাটাউনকে নতুন রূপ দিতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে চিনা সংস্কৃতির ঐতিহ্য অটুট রাখা হবে। পাশাপাশি, ঐতিহাসিক শহর চন্দননগরের নদীতীর উন্নয়নও এই মেগা তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিধাননগর পুর এলাকায় জরাজীর্ণ সরকারি আবাসনগুলির পুনর্নির্মাণ, রাজ্যজুড়ে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, হকারদের জন্য সুশৃঙ্খল জোন তৈরি, কলকাতার বস্তি পুনর্বাসন এবং পবিত্র তীর্থক্ষেত্র নবদ্বীপের ঘাট উন্নয়নও এই চুক্তির মূল অঙ্গ। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো গঙ্গার দুই তীরের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা। মুম্বইয়ের বিখ্যাত মেরিন ড্রাইভের আদলে গঙ্গার ধারে চার লেনের হাইওয়ে, মনোরম ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ, ডেডিকেটেড সাইকেল ট্র্যাক, আধুনিক হোটেল ও বিশাল অফিস কমপ্লেক্স গড়ে তোলার দারুণ পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি ডায়মন্ড হারবার থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মেট্রো সংযোগের মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে, যা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।

হকারদের সুব্যবস্থার জন্য ফুড স্ট্রিট, মোবাইল ভেন্ডিং এবং কিউআর কোড ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, যা শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। বস্তিবাসীদের জন্য স্থায়ী আবাসনের রূপরেখাও তৈরি করা হচ্ছে। নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, লন্ডন বা সিঙ্গাপুরের ভালো দিকগুলি গ্রহণ করে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই এই মেগা উন্নয়ন রূপায়িত করা হবে। যদিও প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা ও সমঝোতার প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং পোর্ট ট্রাস্ট ও পূর্ত দফতরের মতো একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে এটি বাস্তবায়িত হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবুও এই রূপরেখা সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।