“ভোটার নিধন যজ্ঞ বরদাস্ত করব না!” ২৩ নভেম্বর ভোটের তালিকা প্রকাশের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে ঝোড়ো হাওয়া

আগামী ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বহুল প্রতীক্ষিত খসড়া ভোটার তালিকা (West Bengal Draft Voter List 2026)। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল তালিকা প্রকাশের ঠিক আগে রাজ্য নির্বাচন প্রধান আধিকারিক (CEO) দফতরে রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সর্বদল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই বৈঠক শেষ হতেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত চড়া সুরে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়। বৈঠকের পর তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সরাসরি CEO দফতরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন এবং নির্বাচন কমিশনকে একহাত নেন।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাফ জানিয়ে দেন যে, দিল্লির নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশের দোহাই দিয়ে নির্বাচন কমিশন বা তাদের আধিকারিকরা নিজেদের সমস্ত দায় ও দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবেন না। স্পেশাল সামারি রিভিশন বা SSR প্রক্রিয়ার আড়ালে যদি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় বা ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। একে সরাসরি ‘ভোটার নিধন যজ্ঞ’ বলে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় দল সর্বশক্তি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানাবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন এই খসড়া ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী শিবিরগুলির নজর যেমন এই তালিকার ওপর নিবদ্ধ, তেমনই শাসক দলও আগে থেকেই কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে রেখেছে। ২৩ নভেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর এই বিতর্ক যে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য।