কর্নাটকে মিড-ডে মিল বিতর্কে নয়া মোড়! ডিম পরিবেশনে আপত্তি, ৮০টি পরিবারের স্কুল ছাড়ার হুমকি

কর্নাটকের মাণ্ড্য জেলার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলে ডিম পরিবেশনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন যে, বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত বীরভদ্রেশ্বর স্বামীর মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার্থে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ডিম বা কোনো আমিষ রান্না করা তাদের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত হানছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ৮০টি পরিবারের ১২০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৮০ জনের পরিবার হুমকি দিয়েছে যে, এই নিয়ম অব্যাহত থাকলে তারা তাদের ছেলেমেয়েকে আর স্কুলে পাঠাবে না। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পরিবার ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের (TC) আবেদনও জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ:
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা ডিম দেওয়া বন্ধ করতে বলেছি। আগে কয়েকজনকে ডিম এবং বাকিদের জন্য কলা বা চিক্কি (বাদামের মিষ্টি) দেওয়া হতো। ডিমগুলো রান্না না করে কর্মীদের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। হঠাৎ করে আমাদের না জানিয়ে স্কুলে ডিম রান্না শুরু হয়েছে। এটা মানা যায় না।” তাদের দাবি, মন্দির সংলগ্ন এলাকায় আমিষ রান্না করা তাদের পবিত্র বিশ্বাসকে অসম্মান করছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান:
অন্যদিকে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, তারা সরকারের নির্দেশ মেনেই মিড-ডে মিলে ডিম পরিবেশন শুরু করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “ডিম খাচ্ছে কি না সেসব না ভেবে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। স্কুলে পড়াশোনা সবচেয়ে জরুরি।” তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, একজন পড়ুয়া ডিম চাইলে সেটি সরবরাহ করা তাদের দায়িত্ব।
শিক্ষা দফতরের সংকট:
এই ঘটনায় কর্নাটকের শিক্ষা দফতর রীতিমতো বিপাকে পড়েছে। একদিকে সরকারের নির্দেশিকা, অন্যদিকে স্থানীয় ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্কুল ছাড়ার হুমকির মুখে তারা উভয় সংকটে পড়েছেন। মাণ্ড্য জেলা ইনচার্জ মন্ত্রী চেলুভারায়া স্বামী এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষা দফতর, স্কুল প্রধান এবং অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক হবে। সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে।”
এই বিতর্ক কর্নাটকে মিড-ডে মিলের খাদ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে। সরকার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সূত্র বের না হলে বহু শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।