কর্ণাটকে নদীতে ঝিনুক তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ৮ জনের, নিখোঁজ অনেকে

কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলায় এক ভয়াবহ নদী দুর্ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে জেলার ভাটকল তালুকের ভেঙ্কটাপুরা নদীর মোহনায় ঝিনুক সংগ্রহ করতে গিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৭ জনই মহিলা বলে জানা গেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সকালের দিকে সিরলি গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ১৪ জনের একটি দল ভেঙ্কটাপুরা নদীতে ঝিনুক সংগ্রহের জন্য নেমেছিলেন। নদীর মোহনায় জলস্তর কম থাকায় তারা কিছুটা ভেতরে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই নদীতে জলের স্রোত ও জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। স্রোতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, দলের সদস্যরা সামলে ওঠার আগেই তারা তলিয়ে যেতে শুরু করেন।

উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া: ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ভাটকল গ্রামীণ থানার পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও ২-৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের সন্ধানে নদী ও মোহনা এলাকায় জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তা: এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিটি পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন।

  • প্রাথমিক তদন্ত: পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, যা হয়তো ওই গ্রাম্য বাসিন্দারা বুঝতে পারেননি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, নদীর জোয়ার-ভাটা বা জলস্তর সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে ছোটখাটো পেশাদার কাজও কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy