ককপিটেই রক্তারক্তি কাণ্ড! ওমানি কো-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার

মধ্য আকাশে রক্তারক্তি কাণ্ড এবং চরম উত্তেজনার সাক্ষী থাকল আন্তর্জাতিক উড়ান। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি বিমানে ককপিটের ভেতরেই ঘটে যাওয়া এক হামলার ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে যৌথভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩ (FZ1073) যখন আকাশে, ঠিক তখনই ককপিটের ভেতর দুই পাইলটের মধ্যে মারাত্মক বিবাদ ও হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে বিমানটিকে তৎক্ষণাৎ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাবুক বিমানবন্দরে তা নিরাপদে অবতরণ করে। ওই বিমানে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ২৭ জন শিশুও ছিল। বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গেলেও এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।

আহত ভারতীয় পাইলট ও ওমানের কো-পাইলট

এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তাঁর প্রথম ছবি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিমানের সহ-পাইলট তাঁকে আক্রমণ করেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, ওই অভিযুক্ত সহ-পাইলট ওমানের নাগরিক। তবে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার হার না মেনে সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা প্রতিরোধ গড়েন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার হাত থেকে বিমানটিকে রক্ষা করেন।

উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো ঘটনাটির উপর নজর রাখছে। বিমানের ভিতরে ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা উদঘাটনে বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল কাউন্সেলর হামাদ আল শামসি। পাবলিক প্রসিকিউশনের এই বিশেষ দল খতিয়ে দেখছে হামলার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল। এর পেছনে কোনও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের যোগ রয়েছে কি না, কিংবা পুরো ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পিত কি না, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Pratik Saha
  • Pratik Saha