‘ওসামা থেকে মাসুদ আজহার— পাকিস্তান কি চিরকালই সন্ত্রাসবাদের আতুড়ঘর? রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের!’

জাতিসংঘে আবারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চড়া সুরে আক্রমণ শানাল ভারত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের উপায়’ শীর্ষক আলোচনায় পাকিস্তানের দ্বিচারিতাকে একহাত নিলেন ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব রঘু পুরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিশ্ববাসী ৯/১১, ২৬/১১ এবং পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলা ভুলে যায়নি। পাকিস্তানের মদতে চলা সন্ত্রাসবাদ এবং তাদের ভণ্ডামি আজ আর কারোর অজানা নয়।

ভারতের তরফে বলা হয়েছে, পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের সন্ত্রাসের শিকার ও ত্যাগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে আসছে। অথচ, তাদের দেশেই যে জইশ-এ-মোহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীরা অবাধে ঘুরে বেড়ায় এবং সরকারি মদদ পায়, তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা করে যে নাটক পাকিস্তান শুরু করেছে, তাকে স্রেফ ‘লোকদেখানো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির কড়া বার্তা, আন্তর্জাতিক আর্থিক তদারকি সংস্থা এফএটিএফ-এর (FATF) চাপের মুখে পড়ে এই ধরনের মরিয়া পদক্ষেপ করছে ইসলামাবাদ।

চলতি বছরের মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলার জবাব দিতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালায় ভারত। রঘু পুরী উল্লেখ করেন, যখন সংবাদমাধ্যম সহজেই মাসুদের নাগাল পেতে পারে এবং ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সাফল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে, তখন নিশ্চিতভাবেই পাক সরকারের তার সঠিক অবস্থান জানা রয়েছে। তা সত্ত্বেও পাকিস্তান বিশ্বকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

তাছাড়া, আফগানিস্তান সরকারের তরফ থেকেও পাকিস্তানের সেই দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে বলা হয়েছিল মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে লুকিয়ে রয়েছে। আফগান বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট বক্তব্য, আজহার তাদের ভূখণ্ডে নেই। অন্যদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক নেতাদের স্বীকারোক্তিই প্রমাণ করে যে সেখানে সন্ত্রাসবাদ কতটা শিকড় গেড়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারত জানায়, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলিকে যখন রাজনৈতিক ও সরকারি প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তখন আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলি অর্থহীন হয়ে পড়ে।

পরিশেষে ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, কেবল ফাঁকা বুলি বা নাটক করে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য অপরাধী, ষড়যন্ত্রকারী এবং তাদের অর্থায়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিশ্চিত আইনি পদক্ষেপ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের বৃহত্তম মঞ্চে ভারতের এই ঝাঁজালো বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শোরগোল ফেলে দিয়েছে।