উৎসবের আলোয় মশার ছোবল! পুজোর মুখে ডেঙ্গির চরম আতঙ্ক, কলকাতা ও হাওড়া নিয়ে সরকারের বড় পদক্ষেপ

দুর্গাপুজোর আলোয় যখন মাতোয়ারা হতে শুরু করেছে গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই উৎসবের আনন্দের মাঝে বড়সড় চিঁড়ে চ্যাপ্টা ভয় দেখাচ্ছে মারণ ডেঙ্গি। প্রতি বছরই অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রাজ্যে ডেঙ্গির দাপট সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়। এ বারও তার ব্যতিক্রম নয়। পুজোর দিনগুলোতে যাতে মহামারি আকার ধারণ না করে, তার জন্য আগাম কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এক জরুরি পর্যালোচনার পর কলকাতা ও হাওড়ার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা এবং বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
পুজো মণ্ডপগুলোর জন্য নতুন SOP
উৎসবের দিনগুলোতে পুজো মণ্ডপ চত্বরে উপচে পড়ে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। অনেক সময় অস্থায়ী বাঁশ ও ত্রিপল কাটার কাঠামোর ফাঁকে জল জমে মশার লার্ভা জন্মায়। এই ঝুঁকি এড়াতে সব পুজো কমিটিগুলোর জন্য আলাদা নির্দেশিকা বা Standard Operating Procedure (SOP) তৈরি করছে স্বাস্থ্য দফতর। ক্লাবের উদ্যোক্তাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় কোথাও যেন একফোঁটাও জল জমে না থাকে। সেই সঙ্গে নিয়মিত মশা মারার স্প্রে ও সচেতনতামূলক কড়া নজরদারি চালাতে হবে।
মেট্রো জুড়ে ঝটিকা প্রচার
শুধু মণ্ডপ নয়, পুজোর শপিং থেকে ঠাকুর দেখা—শহরের মানুষের অন্যতম ভরসা কলকাতা মেট্রো। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এ বার মেট্রো স্টেশন ও ট্রেনগুলোতে জোরকদমে ডেঙ্গি বিরোধী প্রচার চালানোর মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রেড জোনে কলকাতা ও হাওড়া
স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট বলছে, কলকাতা পুরনিগমের বোরো-১ এলাকা এখন উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ২, ৬, ৭, ১১৬ এবং ১১৯ নম্বর ওয়ার্ডে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। একইভাবে হাওড়া পুরনিগমের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জানা গিয়েছে, ওই ওয়ার্ডের একটি নার্সিং স্কুলের একাধিক পড়ুয়া ইতিমতেই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সমস্ত ‘রেড জোন’গুলোতে পুরসভা ও স্বাস্থ্য দফতর যৌথভাবে স্পেশাল ড্রাইভ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে শুরু করেছে।
হাসপাতালগুলোকে অডিট ও কড়া বার্তা
ইতিমধ্যেই চলতি মরশুমে ডেঙ্গিতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো অডিট করে খতিয়ে দেখেছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা বা গাইডলাইন চুলচেরা মেনে চলার জন্য সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, “পরিস্থিতি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমরা প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছি। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতাই ডেঙ্গি মোকাবিলার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।”