ওড়িশার জঙ্গলে হঠাৎ মিলল বিরল ওরাংওটাং! আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস?

ওড়িশার বালেশ্বর জেলার জঙ্গল থেকে অত্যন্ত বিরল প্রজাতির ৫টি ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া কিংবা চিনের গভীর অরণ্যে এই ধরনের প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু মঙ্গলবার বালেশ্বর জেলার ভোগারাই ব্লকের উদয়পুর বন বিভাগের অন্তর্গত রানকোথার বড়পাহি এলাকায় এই বিদেশি ওরাংওটাংগুলির সন্ধান মেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাদের একঝলক দেখতে বনাঞ্চলে উপচে পড়া ভিড় জমে যায়।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই উদয়পুর বন বিভাগের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতার সঙ্গে ৫টি ওরাংওটাংকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিমও তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাণীগুলির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওরাংওটাংগুলির বয়স আনুমানিক এক থেকে দুই বছরের মধ্যে। বর্তমানে তাদের কঠোর পর্যবেক্ষণে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ওড়িশার বনমন্ত্রী গণেশ রাম সিং খুন্তিয়া জানিয়েছেন যে, শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাথমিক পরিচর্যার পর খুব শীঘ্রই এই প্রাণীগুলিকে বিখ্যাত নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে স্থানান্তরিত করা হবে।

তবে সুদূর বিদেশ থেকে এই ধরনের বিরল প্রাণী কীভাবে ওড়িশার মতো একটি রাজ্যে এসে পৌঁছাল, তা নিয়ে গভীর রহস্য দানা বেঁধেছে। এ প্রসঙ্গে রাজ্যর বনমন্ত্রী গণেশ রাম সিং খুন্তিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় আন্তর্জাতিক পাচার চক্র বা মাফিয়াদের যোগসূত্র থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক একটি ওরাংওটাংয়ের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাচারের উদ্দেশ্যেই হয়তো এই প্রাণীগুলিকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

পিসিসিএফ প্রেম ঝা এই প্রসঙ্গে জানান যে, ওরাংওটাং ভারতের স্থানীয় কোনো বন্যপ্রাণী নয়। এগুলো কীভাবে এবং কোন পথে ওড়িশায় এল, তা খতিয়ে দেখতে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী শাখা এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নন্দনকানন থেকে ইতিমধ্যেই অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকদের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, ওরাংওটাং স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির হয় এবং মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বিবর্তনের ইতিহাসে এদের মানুষের নিকটতম পূর্বপুরুষদের অন্যতম বলে গণ্য করা হয়। এই বিরল প্রাণীগুলির আগমন এবং পাচার চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে এসিসিএফ (ACCF)-এর উচ্চপর্যায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সম্পূর্ণ হলেই আসল রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।