ওড়িশায় প্রাক্তন স্ত্রীর গলা কাটার চেষ্টা, সঙ্গীর যৌনাঙ্গ বিকৃত! পলাতক অভিযুক্ত

ওড়িশার জাজপুর জেলার মালাহাট গ্রামে এক ভয়াবহ পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ জুলাই, ২০২৫) এক ব্যক্তি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর গলা কেটে খুনের চেষ্টা করেছেন এবং তাঁর সঙ্গীর যৌনাঙ্গ ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিকৃত করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় আক্রান্ত যুগলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মনোজ কুমার মহান্তি পলাতক রয়েছে এবং পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

বিবাহবিচ্ছেদ ও নতুন সম্পর্কের জেরে দীর্ঘদিনের অশান্তি
অভিযুক্ত মনোজ কুমার মহান্তির বাড়ি জারাডা গ্রামে। জানা গেছে, তাঁর স্ত্রী প্রায় বছরখানেক আগেই মনোজকে ছেড়ে প্রশান্ত নাথ নামের এক যুবকের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। এই বিষয় নিয়ে মনোজ এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রাক্তন স্ত্রী ও প্রশান্তের দীর্ঘ সময় ধরে অশান্তি চলছিল।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মনোজের পরিবারের তরফে মহিলা ও প্রশান্তকে ‘বোঝাপড়ার’ জন্য দেখা করতে ডাকা হয়েছিল। তাদের মালাহাটের কাছে সাতিপুর ব্রিজের কাছে দেখা করতে বলা হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরই ঘটে এই নৃশংস হামলা।

আক্রান্তের বয়ান: ‘বেঁধে ফেলে গলায় কোপ মেরে পালায়’
নির্যাতিতা মহিলা পুলিশকে জানান, “আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে প্রায়ই মারধর করত, গালিগালাজ করত। আমি অতিষ্ঠ হয়ে বছর খানেক আগে এই মানুষটার (প্রশান্ত) সঙ্গে পালিয়ে যাই। ওরা বলেছিল বোঝাপড়ার জন্য ডেকেছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, আমার দেওর ও শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয় রয়েছে। ওরা আমাদের বেঁধে ফেলে। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় কোপ মেরে খালের পাড়ে ফেলে দিয়ে পালায়।”

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুগলকে উদ্ধার করে জাজপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। মহিলার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে এবং প্রশান্তের যৌনাঙ্গ গুরুতরভাবে জখম হয়েছে।

অভিযুক্ত মনোজ পলাতক, পুলিশের তল্লাশি জারি
এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর মনোজ কুমার মহান্তির বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তের খোঁজে পুলিশ জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালাহাট গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এমন ভয়ঙ্কর ও পৈশাচিক হামলা তারা আগে কখনও দেখেননি। পুলিশের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এই ঘটনা পারিবারিক বিবাদ এবং তার চরম পরিণতিকে আবারও সামনে নিয়ে এল, যা সমাজের জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ।