“ওঁকে কেউ ডাকে না!” দুর্গাপুজো নিয়ে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে তুফান!

রাজ্যজুড়ে এখন শারদোৎসবের রঙিন আবহ। আর ঠিক এই সময়েই বাংলার দুর্গাপুজো নিয়ে একেবারে বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বসল রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, এবছরের দুর্গাপুজো নেহাতই আর একটি সাধারণ উৎসব নয়, বরং এটি একটি ‘পরিবর্তনের পুজো’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। তাঁর মতে, এ বছরের উৎসবের পরিধি ও ঐতিহাসিক আয়োজন আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
এদিন রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, এই মহোৎসবের জন্য সরকার এবার নানা ঐতিহাসিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পুজো উদ্যোক্তাদের পাশেও দাঁড়াচ্ছে। তিনি জানান, অতীতে যেখানে মাত্র ৪৫ হাজার পুজো কমিটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো, এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কমিটিতে গিয়ে ঠেকেছে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিটি মানুষের মনে উৎসবের যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। সরকার নিজেই যেভাবে পরিবেশ তৈরি করেছে, তাতে সাধারণ মানুষ দারুণ খুশি এবং পুজোর এই রূপটি সম্পূর্ণ আলাদা।
তবে এই সমস্ত প্রশংসার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করতেও ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গাপুজো সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “ওঁকে তো কোনও পুজোতেই ডাকা হয় না… ওঁরও পুজোয় অংশ নেওয়া উচিত।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষের এই কটাক্ষ আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে বাধ্য।
এদিকে রাজনীতির তরজার বাইরে তিলোত্তমার রাজপথে এখন থিম পুজোর ক্রেজ তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই কলকাতার একাধিক বড় এবং হাইপ্রোফাইল পুজো মণ্ডপ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিজেদের পুজোকে সবার চেয়ে আলাদা ও অনন্য করতে উদ্যোক্তারা শিল্প, সংস্কৃতি এবং সমসাময়িক ভাবনাকে পুঁজি করে তৈরি করেছেন চোখধাঁধানো সব মণ্ডপ।
বাংলার এই শারদীয়ার আবহে মিষ্টির ভূমিকা অনস্বীকার্য। কলকাতা এবং তার আশপাশের এলাকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ নিতে দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ ছুটে আসেন। মানুষের পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস ও রুচির কথা মাথায় রেখে এ বছর আহিরীটোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব তাদের মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে বাংলার সুপ্রাচীন মিষ্টির ঐতিহ্যকেই বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। সবমিলিয়ে, রাজনৈতিক বিতর্ক আর হরেক রকমের সৃজনশীল থিমের জাদুতে এ বছরের দুর্গাপুজো যে এক ঐতিহাসিক রূপ নিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।