‘ঐক্যের বাংলায়’ হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি! মমতার বিরুদ্ধে তোপ দেগে হুমায়ুনকে বড় বার্তা দিলেন নওশাদ

বাবরি মসজিদ বিতর্ক এবং তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের আবহে এবার হুমায়ুন কবীরকে শর্ত দিলেন আইএসএফ নেতা তথা ভাঙরের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর সাফ কথা— সাম্প্রদায়িক মন্তব্য প্রত্যাহার করলে তবেই ভবিষ্যতে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলোচনায় বসা যেতে পারে।

আসানসোলের বারাবনিতে শুক্রবার একটি সভায় হুমায়ুন কবীরের প্রসঙ্গ উঠলে নওশাদ এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। লোকসভা ভোটের আগে হুমায়ুন কবীরের করা ‘সাম্প্রদায়িক’ মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে নওশাদ বলেন, “এই মুহূর্তে জোট বাঁধার কোনও প্রশ্নই আসছে না। তবে, সেই মন্তব্য তিনি প্রত্যাহার করে নিলে ভবিষ্যতে হয়তো আলোচনায় বসার সুযোগ হতে পারে।”

তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে আইএসএফ নেতা জানান, “এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। দলের তরফেও তাকে কেউ কিছু বলেননি। হতে পারে অন্য কেউ আমাদের দলের কর্মী সেজে হুমায়ুনবাবুকে টোপ দিচ্ছেন।”

নওশাদ আরও স্পষ্ট করে দেন যে, জোটের প্রশ্নে এখনও তিনি তাঁর পুরনো অবস্থানেই অনড়। তিনি বলেন, “জোটের কোনও প্রশ্নই উঠছে না। লোকসভা ভোটের আগে তিনি যে সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলেছিলেন, উনি সেই কথা ফিরিয়ে না-নিলে জোটের কোনও প্রশ্নই আসছে না। আগে উনি ওই কথা প্রত্যাহার করুন তারপর আলোচনায় বসা যাবে।”

মমতা ও ভোট-রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য:

হুমায়ুন কবীরের বহিষ্কারের পর মুসলিম ভোটে কি আইএসএফ সুযোগ নেবে? এই প্রশ্নের উত্তরে নওশাদ বলেন, “হিন্দু না মুসলিম ভোট, এইভাবে আমরা সুযোগ নেব না। আমরা মানুষের অধিকারের কথা বলি। মানুষ যদি সেই সুযোগ দেয় তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে আসবে।”

তিনি আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ হিন্দু-মুসলিমের কেউই নিতে পারছে না। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দুদের মন পাওয়ার জন্য মন্দির করতে ব্যস্ত। হুমায়ুনকে যে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাও হিন্দু ভাইদের মন পাওয়ার জন্য। তবে তাতে হিন্দু ভাইদের মন গলবে না। আর মুসলমানরা মনে মনে প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে যে তারা তৃণমূলকে হারাবে।”

নওশাদের মতে, হুমায়ুনের মন্তব্য বাংলার ঐক্যের পরিপন্থী। “এটা নজরুল-রবির বাংলা। তাই সেই মন্তব্য প্রত্যাহার করলে, তবেই আলোচনা,” চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেন ভাঙরের এই বিধায়ক।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ভরতপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির কথা জানিয়েছিলেন। এই মন্তব্যের জেরে গত ৪ ডিসেম্বর তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। তা সত্ত্বেও আজ, ৬ ডিসেম্বর রেজিনগরে মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন হুমায়ুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy