‘এসআইআর মানেই অনুপ্রবেশকারী ভাগাও, ভারত বাঁচাও!’ বিরোধী জোটকে ধুলোয় মিশিয়ে ধর্মতলার সভা থেকে কেন এমন বললেন শুভেন্দু?

গতকাল দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের মেগা সমাবেশের পরদিন, আজ জবাব দিতে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ ডাক দিয়ে রাজপথে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি। কলকাতায় আজ কলেজ স্কোয়্যার থেকে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়ে ধর্মতলায় শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মতলার জনসভা থেকে কড়া ও আগ্রাসী ভাষায় বিরোধীদের একযোগে আক্রমণ হানেন শুভেন্দু অধিকারী।

বক্তব্যের শুরুতেই মোদী সরকারের উন্নয়ন ও দেশপ্রেমের নীতি তুলে ধরে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “দুর্নীতি থেকে নিজেদের বাঁচাতে, পরিবারতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে আর তোষণ এবং জামাতি রাজনীতিকে ফেরাতে যারা আজ এক হয়েছে, তাদের বার্তা দিতে চাই—বিজেপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে। এবারের ২০২৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আমরা ২ কোটি ৯২ লাখ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছি। আজ স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি, এই এসআইআর (SIR)-এর আসল অর্থই হলো—অনুপ্রবেশকারী ভাগাও, ভারত বাঁচাও!”

বিরোধী শিবিরকে একঝাঁক কঠোর শব্দবন্ধে বিধে শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “আজ এরা দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। দিমাগী নকশাল, জিহাদী, জঙ্গি, মাওবাদী, জমাতি, পরিবারবাদী ও ভ্রষ্টাচারী—এই সমস্ত দেশবিরোধী শক্তিকে উপড়ে ফেলার সময় এসেছে। নিতিন নবীনজির নেতৃত্বে এবং নরেন্দ্র মোদীজির নির্দেশনায় আমাদের এই লড়াই জারি থাকবে।”

কঠোর ভাষায় সতর্ক করে তিনি বলেন, “আরশোলা, ছারপোকা, দিমাগী নকশাল কিংবা ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ দেখলেই সতর্ক থাকতে হবে। যেখানে ড. শ্যমাপ্রসাদ মুখার্জীর ত্যাগ রয়েছে, সেই কাশ্মীর আমাদের। নিতিন নবীনজির কাছে বাংলার সমস্ত তথ্য ইতিমধ্যেই রয়েছে।” পাশাপাশি সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির বিশাল জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, আগামী কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে বিরোধীদের সম্পূর্ণ সাফ করে যোগ্য জবাব দেবে বিজেপি।