ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) এনুমারেশন পর্ব শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা এবং কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূলপন্থী বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) একাংশ। সঠিকভাবে খসড়া তালিকা প্রকাশ না হওয়া এবং শুনানির নির্দেশিকায় অস্পষ্টতার অভিযোগে সিইও (CEO) দফতরের সামনে ফের বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা।
বিক্ষোভের মূল কারণ:
তৃণমূলপন্থী সংগঠন **’বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’-**র সদস্যরা এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। তাঁদের ক্ষোভের মূল কারণগুলি নিম্নরূপ:
১. নতুন অপশনে কাজের বাড়তি চাপ: এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপের পর্ব শেষ হওয়ার পরই কমিশন তাদের অ্যাপে ‘সিমিলার ফটো ইলেক্টর ভেরিফিকেশন’ নামে নতুন অপশন চালু করেছে। এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে: “একই ছবি একাধিক ভোটারের ক্ষেত্রে ব্যবহার হলে ফের পরীক্ষা করে সেই রিপোর্ট বিএলও অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে পাঠাবেন।”
২. আগে কেন দেওয়া হয়নি অপশন?: বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, জমা দেওয়ার পর আবার রি-ভেরিফিকেশনের জন্য নতুন ট্যাব যোগ করা হলো কেন? এই অপশন প্রথমে কেন দেওয়া হলো না?
৩. প্রশিক্ষণ ছাড়াই চাপানো নির্দেশ: রামপুরহাটের এক বিক্ষোভকারী বিএলও, নির্মল মণ্ডল বলেন, “প্রপার ট্রেনিং, নির্দিষ্ট কৌশল সেগুলো আমাদের না শিখিয়ে হঠাৎ করে চাপিয়ে দেওয়া, যেগুলো আমরা নিতে পারছি না।” সালানপুরের বিএলও পূর্ণচন্দ্র মাঝি জানান, কালকে আপডেট করার পর তিনি দেখছেন প্রায় ২০০ ফর্ম রি-ভেরিফাই করার জন্য তাঁর কাছে এসেছে।
৪. সময় না বাড়ানোর অভিযোগ: বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সমস্ত রাজ্যেই এসআইআর-এর সময় বাড়ানো হয়েছে, অথচ পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
৫. খসড়া তালিকায় ত্রুটি: বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সঠিকভাবে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং কখন থেকে শুনানি শুরু, সেই নির্দেশিকাতেও অস্পষ্টতা রয়েছে। এছাড়া বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ নিয়েও তাঁরা সরব হয়েছেন।
বিএলও-দের হুঁশিয়ারি:
বিক্ষোভকারীরা ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’-র ব্যানারে স্লোগান দেন: “বিএলও-দের ওপর এইভাবে মানসিক অত্যাচার কেন? ইসিআই-এর জবাব চাই, জবাব দাও।” তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন যে প্রত্যেকদিন কাজের চাপ বাড়তে থাকলে তাঁরা কী করবেন।
একই বিক্ষোভের ছবি আসানসোলের সালানপুর-সহ রাজ্যের একাধিক জেলাতেও দেখা গেছে। এনুমারেশন পর্ব শেষের পরেও এই অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁরা সরব হয়েছেন।