এলপিইউ ধর্ষণকাণ্ডে নতুন মোড়! জোর করে ভিডিও করানোর বিস্ফোরক অভিযোগে কাঠগড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

পাঞ্জাবের প্রখ্যাত লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (LPU)-তে এক ছাত্রীর ওপর যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যার গুজবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অশান্তি ও বিক্ষোভের আগুন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে যে তিন ছাত্রীকে দেখা গিয়েছিল, তাঁরা এবার খোদ প্রশাসনের বিরুদ্ধেই মারাত্মক অভিযোগ তুললেন। ওই ছাত্রীদের দাবি, তাঁদের কী বলতে হবে তা আগে থেকেই শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের বক্তব্যের একটি বড় অংশ তাঁদের সম্মতি ছাড়াই কাটছাঁট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল হওয়া গুজবকে কেন্দ্র করে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে হস্টেলের গার্লস হস্টেল-৩ (GH3)-এর ৫০৪ নম্বর ঘরে এক ছাত্রীর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং পরে সে আত্মহত্যা করেছে। এই খবর চাউর হতেই ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডঃ মনিকা গুলাটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেই ভিডিওতে ওই ঘরের তিন ছাত্রীকে বলতে শোনা যায় যে তাঁদের ঘরে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং পুলিশ বা ছাত্রদের বারবার বিরক্ত না করার অনুরোধ জানানো হয়। ভিডিওর শেষে ডঃ গুলাটি এই পুরো অশান্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছিলেন।

কিন্তু এর পরেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায় যখন ওই তিন ছাত্রীর আরও একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে ওই ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের দিয়ে জোর করে ওই কথাগুলো বলিয়েছিল এবং তাঁদের অনুমতি না নিয়েই ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশ এডিট করে ইনস্টাগ্রামে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জেরে তাঁরা অযথা হেনস্থা ও গালিগালাজের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন। যদিও এই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা কিংবা ছাত্রীদের করা অভিযোগগুলির কোনো নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, এই গুজব ও ছাত্রীর যৌন নির্যাতনের দাবিকে কেন্দ্র করে সোমবার ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা হস্টেলের জানলার কাচ ও ফুলের টব ভাঙচুর করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু পড়ুয়া জালন্ধর-ফাগওয়াড়া জাতীয় সড়ক (NH-44) অবরোধ করলে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে জালন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিঙ্গলা এবং কপুরথলার এসএসপি গৌরব তূরা পুলিশ বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে এই ধরনের কোনো অপরাধমূলক ঘটনার কোনো প্রমাণ বা খবর তাদের কাছে নেই।

অন্যদিকে, এই ব্যাপক অশান্তি ও উত্তেজনার জেরে আগামী ১০ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্লাস স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে LPU কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সমস্ত মিড-টার্ম পরীক্ষাও মুলতুবি রাখা হয়েছে। ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক গুজব এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।