‘এরাজ্য কোনও ধর্মশালা নয়’, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব শমীক ভট্টাচার্য,

ভিনরাজ্যে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের আটক করার অভিযোগ নিয়ে এবার পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সোমবার শিলিগুড়িতে তার প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে এসে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “এরাজ্য কোনও ধর্মশালা নয়। যেকেউ যেকোনও জায়গা থেকে ইচ্ছে হলেই চলে আসবে। সেটা বরদাস্ত করা হবে না।” তার এই মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বাঙালি হেনস্থা’র অভিযোগের বিরুদ্ধে বিজেপির কড়া অবস্থানকে স্পষ্ট করল।

‘বাঙালি হেনস্থা’ বিতর্কে শমীকের পাল্টা প্রশ্ন:
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন এবং আগামী বুধবার তৃণমূলের পথে নামার কথা ঘোষণা করেছেন।

এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “তামিলনাড়ুতে কী চলছে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ন্যূনতম কর্তব্য হল স্টালিনের সঙ্গে কথা বলা। অন্ধ্রপ্রদেশে কী চলছে? এটা শুধুমাত্র বিজেপিশাসিত রাজ্যের বিষয় নয়। অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেই কারণেই তারা পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিচয়পত্র দেখছে।”

শমীক ভট্টাচার্য আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিনরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি বাংলাদেশিরা পরিযায়ী শ্রমিক বলে বারাসত, মধ্যমগ্রাম, শিলিগুড়ি থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়েছে, তাহলে কী হবে?” তার এই মন্তব্য কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই অভিযোগের তির ছুড়েছে।

উত্তরবঙ্গ বঞ্চনা এবং উত্তরকন্যা অভিযান:
শুধুমাত্র বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই নয়, শমীক ভট্টাচার্য উত্তরবঙ্গের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ‘বঞ্চনা’ নিয়েও সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “‘বঞ্চিত, অবহেলিত উত্তরবঙ্গ’, এই স্লোগান এর আগেও অনেক রাজনৈতিক দল তুলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে উত্তরকন্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জন্য যা বরাদ্দ হয়, তা দিয়ে জল গরম হয় না।”

তিনি অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়, তার মধ্যে একবারই ৪০ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছিল, বাকি সময় ২০ থেকে ২২ শতাংশ গড়ে খরচ হয়। তিনি আরও বলেন, “এখানকার টাকাও অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতপাতের বিভাজনের রাজনীতি চলছে। আমাদের লড়াই তার বিরুদ্ধে। আমাদের লড়াই সংঘবদ্ধ উত্তরবঙ্গের জন্য। দক্ষিণবঙ্গে সব উন্নয়ন হবে আর উত্তরবঙ্গে উন্নয়ন হবে ছিটেফোঁটা। সেটাও লোকদেখানো নীল-সাদা রং থাকবে, সেটা কাম্য নয়।”

শমীক ভট্টাচার্যের এই সফরের মূল কারণই হলো আগামী ২১ জুলাইয়ের ‘উত্তরকন্যা অভিযান’ সর্বাত্মক সফল করা। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার ব্যানারে এই কর্মসূচি হবে। যদিও শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট বিজেপির কর্মসূচিতে অনুমোদন দেয়নি, শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছেন যে ওইদিন বিজেপির যুব মোর্চার কর্মসূচি হবেই এবং সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “পুলিশ অনুমতি না দিলেও রাজনৈতিক দল কোনও হরিনাম সংকীর্তন করার দল নয়। আমাদের আটকালে একটা রাজনৈতিক দল যা করার তাই করা হবে।”

বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে:
বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি শিলিগুড়ির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আরএসএসের উত্তরবঙ্গের কার্যালয় মাধব ভবনে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সেখানে আরএসএসের উত্তরবঙ্গের নেতৃত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর তিনি আলিপুরদুয়ারের উদ্দেশে রওনা দেন।

আগামী বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলায় সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যা যা প্রয়োজন সব করা উচিত। ছাব্বিশের নির্বাচনে বাঙালি ভোটারদের স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করা উচিত। এবার বাংলার মানুষ প্রস্তুত রয়েছে এবার তৃণমূলের বিসর্জনের জন্য।”

শমীক ভট্টাচার্যের এই সফর এবং মন্তব্যগুলি আসন্ন লোকসভা নির্বাচন এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিল।