‘এত বড় সাহস! আগে নিজে সন্ন্যাস নিন!’ নাম না করে কার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মমতা?

২৮ অগাস্ট যুব তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মেগা সমাবেশে কার্যত রাজনৈতিক ঝড় তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যখন রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর গুঞ্জন ও দলের অভ্যন্তরে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্যাথিড্রাল রোডের এই সমাবেশে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশকে কার্যত তোয়াক্কা না করেই গোটা রাস্তা জুড়ে সভা করায় যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। এদিনের এই জনসভা থেকে জেনারেশন জি (Gen-Z) অর্থাৎ যুব সমাজের ওপর গভীর আস্থার বার্তা দিয়ে মমতা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র রাজনৈতিক আশ্রয় এবং আগামী দিনে ধর্মে ধর্মে বিভাজনের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ ও মহিলারাই মূল লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠবেন। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চের মতোই এদিনও তিনি আগামী দিনে জেলায় জেলায় ঝটিকা সফর শুরু করার স্পষ্ট ঘোষণা করেন।

তবে এই সভা ঘিরে সবথেকে বড় শোরগোল তৈরি হয়েছে তাঁর পুলিশ আক্রমণকে কেন্দ্র করে। একসময়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন খোদ পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাদের ‘দানবিক’ বলে আক্রমণ করেন। ক্যামাক স্ট্রিটের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে যে পুলিশকে তিনি চিনতেন তারা যথেষ্ট মানবিক ছিল, কিন্তু বর্তমান পুলিশ প্রশাসন যেভাবে অতিসক্রিয়তা দেখাচ্ছে তা মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, তাঁদের কি কোনো পরিবার নেই? ভবিষ্যতে এই ধরনের অত্যাচারের জবাব তাঁরা কীভাবে দেবেন? এমনকি পুলিশের অনুমতি না মিললে এবার সরাসরি ‘জনগণের আদালতের’ ওপর ভরসা রাখার হুঙ্কারও দেন তিনি।

পাশাপাশি, বিরোধী শিবিরের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও অত্যন্ত চড়া সুরে জবাব দেন মমতা। কিছুদিন আগেই নাম না করে তাঁর বয়স ও ফেসবুক লাইভ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন শুভেন্দু। তার তীব্র জবাব দিয়ে মমতা গর্জে ওঠেন, ‘‘আপনাদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ভাবে শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না। আমাকে পরামর্শ দেওয়ার এত বড় স্পর্ধা আপনার হয় কী করে? আমি সন্ন্যাস নেব? আগে নিজে গিয়ে সন্ন্যাস নিন, তারপর আমার বয়স নিয়ে কথা বলবেন।’’ গেরুয়া বস্ত্রের অবমাননা হচ্ছে দাবি করে তিনি আরও বলেন যে, ত্যাগী ও যোগীরাই প্রকৃত গেরুয়া পরেন, যা এই ধরনের শক্তির জন্য নয়। এরপরই নাম না করে শুভেন্দুর অতীত মন্ত্রিত্বের প্রসঙ্গ টেনে তীব্র হুমকি দিয়ে মমতা বলেন, অতীতে তিনি কোন কোন দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন এবং সেই সময়ের দুর্নীতির সমস্ত হিসাব এখনও তাঁর পকেটে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, হয় সাধারণ মানুষকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ঠিকঠাক দিতে হবে, না হলে তিনি নিজেই বাধ্য হয়ে তাঁদের দুর্নীতির সমস্ত গোপন ভাণ্ডার প্রকাশ্যে খুলে দেবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকেও শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই মেগা সমাবেশ থেকে আগামী দিনের কঠোর রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।